গোলাপগঞ্জ থেকে সরওয়ার হোসেন:
গোলাপগঞ্জে
সুরমা নদী থেকে ড্রেজার
মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনকারীদের
বাধা দিলে গত সোমবার
দুপুরে বালু উত্তোলনকারীরা প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গ্রামবাসীদের উপরে
হামলা চালায়। বালু উত্তোলকারীদের নেতা উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল কাইয়ুম মুন্নার
নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী
১০/১২ রাউন্ড ফাঁকা
গুলি ছুঁড়ে। সোমবার স্থানীয় রুস্তমপুর
জালালনগর মজিদপুর গ্রামের লোকজন সুরমা নদী থেকে বালু
উত্তোলনে বাধা প্রদান করলে
তাদের উপর হামলা চালায়
ওই দুষ্কৃতিকারি বাহিনী। স্থানীয়রাও ফের হামলা চালালে
বালু উত্তোলনকারী চক্র তাদের বাহিনী
নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র
দিয়ে পাল্টা হামলা চালায় এবং ১০/১২
রাউন্ড গুলিও ছুঁড়ে। স্থানীয়রা ভয়ে দিকবিদিক ছড়িয়ে
পড়েন এবং তাৎক্ষণিক মসজিদের
মাইকে এলাকায় সংবাদ দিলে রুস্তমপুর জালালনগর মজিদপুর গ্রামের হাজার হাজার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়ে
বালু উত্তোলন কারীদের ধাওয়া করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা সুরমা নদীর রুস্তমপুর জালালনগর মজিদপুর গ্রামের এলাকা থেকে ড্রেজার সরানোর
জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি
জানান। পাশাপাশি স্থানীয়রা গাজী বুরহান উদ্দিন সড়কে টায়ারে আগুন
ধরিয়ে প্রায় ৫ ঘন্টা সড়ক
অবরোধ করে রাখেন। সংবাদ
পেয়ে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশসহ অতিরিক্ত
পুলিশ ঘটনাস্থলে যান এবং পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে আনলেও সড়কের ব্যারিকেড তুলতে পারেনি পুলিশ। গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মুন্নার
নেতৃত্বে ও অন্যান্য দোসরদের সহায়তায় নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলের নদী তীরবর্তী
গোলাপগঞ্জ উপজেলার অসংখ্য বাড়ীঘর ও ফসলি জমি
হুমকির মুখে।
সন্ধায়
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মুরব্বি
এবং জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী
কমিটির সদস্য সাহিদুর রহমান চৌধুরী জাবেদ, আওয়ামী
লীগের প্রভাবশালী নেতা ও বাঘা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ
আব্দুস সামাদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আর্জমন্দ আলী সহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের আস্বত্বের প্রেক্ষিতে এবং বালু উত্তোলনকারিরা
সুরমা নদীর রুস্তমপুর, জালালনগর ও মজিদপুর এলাকা থেকে ড্রেজার সরিয়ে
নিলে স্থানীয়রা ব্যারিকেড তুলে নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল কাইয়ুম মুন্না
একজন চিহ্নিত সন্রাসী এবং তার গডফাদারদের প্রশয়ে সে অবৈধ বালু ব্যবসা, চোরাচালান, দখল
সহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যকলাপের সহিত জড়িত। প্রকাশ্য যে, তার নেতৃত্বে নিয়মনীতি মালার কোন তোয়াক্কা না
করে তার বিশাল বাহিনী
নিয়ে প্রায় ৫/৬টি ড্রেজার
মেশিন বসিয়ে দিন ও রাত
পালাক্রমে অভিরাম বালু উত্তোলন করছেন।
ড্রেজারের বিকট শব্দে এলাকবাসীর
ঘুম হারামের পাশাপাশি নদীর পাড়ের বাড়িঘর
ও শতশত একর ফসলি
জমি হুমকির মুখে রয়েছে। একদিকে
বন্যায় আক্রান্ত হয়ে নদীরপারের লোকজন
চরম দুর্ভোগের কবলে রয়েছেন অপর
দিকে বালু উত্তোলনকারি ধীর্ঘদিন
ধরে একাধিক ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন।
স্থানীয়রা এ নিয়ে এলাকায়
সভা-সমাবেশ করেছেন এবং উপজেলা প্রশাসন
ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে শরণাপন্ন হলেও
কোন সুরাহা পাচ্ছেন না।