• বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • /
  • খবর
  • /
  • চুক্তিভিত্তিক পরামর্শকদের শতভাগ বেতন বাড়ল

চুক্তিভিত্তিক পরামর্শকদের শতভাগ বেতন বাড়ল

  • খবর
  • আপন ঘর ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ ৪ জুন ২০২৪

চুক্তিভিত্তিক ৫৪ পরামর্শকের বেতন বৃদ্ধি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। কিছু পরামর্শকের বেতন শতভাগ এবং বাকিদের ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে। বিষয়টি বেবিচকের ২৯৩তম বোর্ডসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে অনুমোদিত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতিসাপেক্ষে বেতন বাড়ানোর কথা বলা হলেও সে পথে হাঁটেনি বেবিচক।


বেবিচক বলছে, এর আগে কমিটির মতামতের ভিত্তিতেই পরামর্শকদের ফি বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তা ছাড়া বেবিচক কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত হওয়ায় পরামর্শকদের ফি বৃদ্ধির ক্ষমতা বোর্ড সংরক্ষণ করে। তাই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়ার প্রয়োজন নেই।


এদিকে পরামর্শকদের বেতন বৃদ্ধি করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বেবিচকের নিয়মিত কর্মচারীরা। তারা বলছেন, যারা বেবিচকের স্থায়ী কর্মচারী, তারা যোগ্যতা ও দক্ষতার সাথে কাজ করলেও তাদের বেতন অনেক কম। অন্যদিকে পরামর্শকরা চুক্তিভিত্তিক হলেও তাদের বেতন অনেক বেশি। তাদের বেতন বৃদ্ধি করায় বেবিচক কর্মচারী ও পরামর্শকদের বেতনের মধ্যে বিশাল পার্থক্য দেখা দিয়েছে। একই কাজ করে পরামর্শকরা বেশি বেতন পেলেও স্থায়ী কর্মচারীরা কম বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, এটা অন্যায়।


বেবিচকের বিভিন্ন বিভাগে বর্তমানে ৫৪ জন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, কনসালট্যান্ট, বিশেষ পরিদর্শক, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, ডিএফওআই, ডিএমই, এভিয়েশন অ্যাটর্নি পদে চুক্তিভিত্তিক পরামর্শক খাতে কাজ করছেন। এর মধ্যে ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন্স বিভাগেই রয়েছেন ৪৯ জন, এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগে ৪ জন ও ফাইন্যান্স বিভাগে ১ জন পরামর্শক আছেন।


বোর্ডসভায় উপস্থাপিত পরামর্শকদের বেতন বৃদ্ধিসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫৪ জন পরামর্শকের মধ্যে ৭ জন ডেজিগনেটেড ফ্লাইট অপারেশন্স ইন্সপেক্টর ও ৪ জন এভিয়েশন মেডিক্যাল এক্সামিনার (খণ্ডকালীন হিসেবে কর্মরত) ব্যতীত বাকি সবাই সার্বক্ষণিকভাবে কর্মরত। এই পরামর্শকরা নিয়মিত কর্মকর্তাদের মতোই সার্বক্ষণিকভাবে দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত। তারা রেগুলেটরি ডকুমেন্ট প্রস্তুত থেকে শুরু করে নিয়মিতভাবে রেগুলেটরি অডিট সম্পন্ন করে থাকেন। তাদের নিরন্তর পরিশ্রমের ফলে বর্তমানে কর্তৃপক্ষের রেগুলেটরি কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ২০১২ সালের ইকাও কো-অর্ডিনেশন ভ্যালিডেশন মিশন (ইসিভিএম) নামক অডিটে বাংলাদেশকে কালো তালিকা থেকে মুক্ত করা এবং ২০১৭ সালে ইকাও অডিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের এভিয়েশনের রেগুলেটরি কার্যক্রমকে অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করার ইকাও সেফটি রেটিং ৭৫.৩৪ শতাংশ ও সিকিউরিটি রেটিং ৭৭.৭ শতাংশে উন্নীত করার পেছনে নিয়মিত কর্মকর্তাদের পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক এই পরামর্শকদের ভূমিকা রয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, বেবিচকে কর্মরত পরামর্শকদের বেতন সর্বশেষ গত ২০১৬ সালে কর্তৃপক্ষের পর্ষদ সভায় ৮০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কোনো বিধান না থাকায় ২০১৬ সালের পর থেকে একই বেতনে চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তার কাজ করে চলেছেন। বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের বেতন বা পরামর্শক ফি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।


গত মে মাসের ২৯ তারিখে অনুষ্ঠিত বোর্ডসভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনে কিছু পরামর্শকের বেতন ১০০ শতাংশ এবং বাকিদের ২৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়। বিস্তারিত আলোচনার পর সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন্স বিভাগে কর্মরত ৩ জন সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ফ্লাইট অপারেশন্স ইন্সপেক্টর, ২ জন স্পেশাল ইন্সপেক্টর (সিনিয়র ফ্লাইট অপারেশন্স), ২ জন জুনিয়র এয়ার ট্রান্সপোর্ট কনসালট্যান্ট ও ২ জন জুনিয়র লাইসেন্সিং কনসালট্যান্টের পরামর্শক ফি ১০০ ভাগ এবং অন্য পরামর্শকদের ফি ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড।


বেবিচকের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দ্রব্যমূল্য সবার জন্যই বেড়েছে। একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পরও স্থায়ী কর্মচারীদের চেয়ে চুক্তিভিত্তিক পরামর্শকদের বেতন বেশি হওয়া প্রত্যক্ষ বৈষম্য।