• বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • /
  • খবর
  • /
  • তিন বছরে ইউক্রেনকে ৬৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা, হঠাৎই বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

তিন বছরে ইউক্রেনকে ৬৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা, হঠাৎই বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

  • খবর
  • আপন ঘর ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ ৪ মার্চ ২০২৫

রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে তিন বছরে ইউক্রেনকে প্রায় ৬৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সহায়তার মধ্যে ট্যাংক, হেলিকপ্টার, ড্রোন, কামান, রকেট লঞ্চারসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ করেই এই সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অস্ত্র সহায়তার বিস্তারিত

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করার পরপরই কিয়েভকে ব্যাপক সামরিক সহায়তা দেওয়া শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তিন বছরে সরবরাহ করা অস্ত্রের তালিকায় উল্লেখযোগ্যভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—

🔹 আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিমান হামলা প্রতিরোধে আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে—

  • ৩টি প্যাট্রিয়ট সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যাটারি
  • ১২টি NASAMS প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
  • হক সিস্টেম ও আনুষঙ্গিক গোলাবারুদ
  • ৩,০০০ এর বেশি স্টিংগার বিমান বিধ্বংসী মিসাইল
  • ২১টি নজরদারি রাডার

🔹 ভারী অস্ত্র ও কামান
মাঠের যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য কিয়েভ পেয়েছে—

  • ২০০টিরও বেশি ১৫৫ মিমি হাউইটজার কামান ও ৩০ লাখ কামানের গোলা
  • ৭২টি ১০৫ মিমি হাউইটজার কামান ও ১০ লাখ রাউন্ড গোলা
  • ৭ লাখেরও বেশি মর্টার শেল
  • ৪০টি হিমার্স রকেট লঞ্চার

🔹 সাঁজোয়া যান ও ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র
মোট ১২০,০০০ ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে—

  • ১০,০০০ জ্যাভেলিন মিসাইল
  • ১০,০০০ TOW ট্যাংক বিধ্বংসী মিসাইল
  • ৩১টি M1 Abrams ট্যাংক
  • ৪৫টি T-72B ট্যাংক (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি)
  • ৩০০টি ব্র্যাডলি সাঁজোয়া যান
  • ৫,০০০+ হামভি সামরিক যান
  • ১,৩০০+ এপিসি (Armored Personnel Carrier)
  • ৩০০টি সশস্ত্র অ্যাম্বুলেন্স

🔹 ড্রোন, হেলিকপ্টার ও বিমান ব্যবস্থা
পেন্টাগন সরাসরি যুদ্ধবিমান না দিলেও ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় শক্তি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে—

  • ২০টি MI-17 সামরিক হেলিকপ্টার
  • বিভিন্ন মডেলের অসংখ্য ড্রোন

🔹 অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম

  • ৫০ কোটি রাউন্ড গুলি ও গ্রেনেড
  • ১০০টি টহল নৌকা ও উপকূল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
  • ক্লেমোর মাইন, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, নাইট ভিশন গগল ও ১ লাখ+ বডি আর্মার

সহায়তা বন্ধের ঘোষণা

তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার অনুমোদন দিয়েছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, তারা কিয়েভের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের নিরাপত্তায় অবিচল থাকবে। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপরই দৃশ্যপট পাল্টে যায়।

ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক সহায়তা পর্যালোচনা ও স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন,

"প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন যে তিনি শান্তি চান। আমাদের অংশীদারদেরও এই লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা আমাদের সহায়তা স্থগিত ও পর্যালোচনা করছি, যাতে এটি সমাধান তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।"

এদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে, যা রাশিয়ার জন্য কৌশলগত সুবিধা বয়ে আনতে পারে। এখন প্রশ্ন উঠছে, ইউক্রেন এই নতুন বাস্তবতায় কীভাবে টিকে থাকবে?