দীর্ঘ দুই দশক পর সংসদ সদস্যদের আবাসস্থল ন্যাম ফ্ল্যাটের ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক হাজার ৮৫০ বর্গফুটের বড় ফ্ল্যাটগুলোর মাসিক ভাড়া পাঁচ গুণ বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে সংসদ কমিটি। এ ছাড়া এক হাজার ২৫০ বর্গফুটের ছোট ফ্ল্যাটগুলোর ভাড়া ৪০০ টাকা থেকে একই হারে বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা নির্ধারণের জন্য বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্ল্যাট বরাদ্দ ও সেখানে বসবাসের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সংসদ সদস্যদের আবাসনসহ সার্বিক বিষয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা ‘সংসদ কমিটি’র প্রথম বৈঠকে ন্যাম ফ্ল্যাটের ভাড়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংসদ ভবন সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
আলোচনা শেষে ন্যাম ভবনের বড় ফ্ল্যাটগুলোর ভাড়া তিন হাজার টাকা ও ছোট ফ্ল্যাটগুলোর ভাড়া দুই হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। তবে নাখালপাড়ার ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটগুলোর বর্তমান ভাড়া একই রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমানে ওই ফ্ল্যাটগুলোর প্রতিটির ভাড়া মাসে এক হাজার ২০০ টাকা।
এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংসদ কমিটির সদস্য এস এম শাহজাদা। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, এই ফ্ল্যাটগুলো চালু হওয়ার পর থেকে এখনো ভাড়া বাড়ানো হয়নি। অথচ সেখানে সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে।
আবার বাইরে বাসা ভাড়াও বেড়েছে। সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউর ছয়টি ভবনের ভাড়া বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে। দ্রুতই এটা কার্যকর হবে।
১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে রাজধানীতে ন্যাম সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই সম্মেলনে আসা অতিথিদের থাকার জন্য রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ, নাখালপাড়া ও মিরপুরে বেশ কয়েকটি ভবন করা হয়।
পরে মিরপুরের ফ্ল্যাটগুলো সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনে এবং মানিক মিয়া এভিনিউ ও নাখালপাড়ার ফ্ল্যাটগুলো সংসদ সদস্যদের বসবাসের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ২০০৩ সালে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটগুলো নামমাত্র ভাড়ায় সংসদ সদস্যদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়।