বিএনপির বর্ধিত সভায় এসব বিষয় সামনে এনে নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল-সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত সভায় তৃণমূল নেতাদের ঐক্য ধরে রাখা, সামাজিক অপরাধ এড়িয়ে চলা এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে রাজনৈতিক কৌশলগত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়।
বর্ধিত সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে, নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করতে এবং নেতিবাচক প্রভাব দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”
বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মতে, নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিবেচনায় রেখে দলীয় ঐক্য সুসংহত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
১️⃣ দলীয় ঐক্য রক্ষা: বিভাজন এড়াতে এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে প্রতিটি স্তরের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
2️⃣ অপরাধ থেকে বিরত থাকা: দখলদারি, চাঁদাবাজিসহ নেতিবাচক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করা যায়।
3️⃣ নির্বাচনী প্রস্তুতি ও প্রতিদ্বন্দ্বী মোকাবিলা: নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম নজরে রেখে কৌশল নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষত, সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করা ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ ও তাদের অন্তর্বর্তী সরকারে অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা সতর্ক রয়েছেন। তারা মনে করছেন, এই দল সরকারকে নিরপেক্ষতা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে, যা বিএনপির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরউদ্দিন স্বপন বলেন, “জাতি ফ্যাসিবাদের ফয়সালা করেছে রাজপথে। জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হবে এবং সংসদে সংস্কারের প্রক্রিয়া চলবে।” তিনি আরও জানান, তারেক রহমান জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলেছেন এবং আগামী নির্বাচন পর্যন্ত এই ঐক্য ধরে রাখাই বিএনপির কৌশল।
যদিও বর্ধিত সভায় তৃণমূলের ১০৬ জন নেতা বক্তব্য দেন, তবে অনেকেই কৌশলগত মতামত দেওয়ার বদলে শীর্ষ নেতার দৃষ্টি আকর্ষণেই বেশি মনোযোগী ছিলেন বলে জানা গেছে। এতে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ নিয়ে গভীর আলোচনা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন কিছু শীর্ষ নেতা।
বিএনপির মতে, দলীয় ঐক্য ধরে রেখে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক চাল বুঝে কৌশল সাজানোই হবে আসন্ন নির্বাচনের জন্য তাদের প্রধান পরিকল্পনা। রাজপথ ও সংসদ—দুটো ক্ষেত্রেই সমান তৎপর থেকে বিএনপি তাদের অবস্থান সুসংহত করতে চায়।