• বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • /
  • খবর
  • /
  • খবর
  • /
  • সমাবেশে অটল বিএনপি, চাইছে কমলাপুর স্টেডিয়াম

চলমান রাজনীতি

সমাবেশে অটল বিএনপি, চাইছে কমলাপুর স্টেডিয়াম

মিরপুর বাঙলা কলেজ মাঠে সমাবেশ করার নতুন প্রস্তাব পুলিশের, শুক্রবার চূড়ান্ত হবে সমাবেশের স্থান।

  • খবর
  • স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
  • প্রকাশিতঃ ৭ ডিসেম্বর ২০২২

বুধবার সংঘর্ষ ও পুলিশি অভিযানের পর বৃহস্পতিবার দিনভর রাজধানীর নয়াপল্টন ছিল অবরুদ্ধ। সেখানে ‘ক্রাইম সিন’ জোন চিহ্নিত করে ঘিরে রাখা হয়। ব্যারিকেড দিয়ে সড়ক আটকে রাখে পুলিশ। সেখানে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে বিএনপি নেতাদের বৈঠকে সমাবেশের নতুন স্থান দুটি আলোচনায় আসে। জানা যায়,  নয়াপল্টন থেকে সরতে রাজি হয়েছে বিএনপি। ১০ ডিসেম্বর সমাবেশের জন্য এখন কমলাপুর স্টেডিয়াম চাইছে দলটি। তবে দলটিকে মিরপুর বাঙলা কলেজ মাঠে সমাবেশটি করার প্রস্তাব দিয়েছে পুলিশ। বিএনপি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেই মাঠটিও দেখে আসবে।

বহুল আলোচিত এই সমাবেশের আগের দিন শুক্রবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে বলে পুলিশ ও বিএনপি উভয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে বেরিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু সাংবাদিকদের বলেন, ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করবেন তারা। কোথায়- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আলোচনায় অনেক স্থানের নাম পুলিশের ও তাদের পক্ষ থেকে উঠেছে।

“আমরা বলেছি পল্টন, উনারা বলেছেন- না। উনারা বললেন সোহরাওয়ার্দী, পরে বলেছে- না সোহরাওয়ার্দী না। পরবর্তী পর্যায়ে আমরা আরামবাগ বলেছি, উনারা তাতে রাজি হয়নি। আমরা সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট স্কুলের কথা বলেছি, তারা সেটাতেও রাজি হয়নি। পরে আমরা বলেছি কমলাপুর স্টেডিয়াম, উনারা নীতিগতভাবে সেটা দেখছেন। উনারা আরেকটা প্রস্তাব দিয়েছেন সেটা হল মিরপুর বাঙলা কলেজ মাঠ। আমরা নিজেরা এখন যাব। দুটি মাঠ পরিদর্শন করে স্টেডিয়াম এবং বাঙলা কলেজ যেটা পছন্দ হয়, আমরা সেটা ওনাদের জানাব।”

যে স্থানই নির্ধারিত হোক, সেখানে জনসভার প্রস্তুতি বিএনপির আছে বলে জানান বুলু।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কিংবা নয়া পল্টন দুটোর কোথাও যে সমাবেশ হচ্ছে না, তা স্পষ্ট হয় এই বিএনপি নেতার কথায়।

তিনি বলেন, নয়া পল্টনে পুলিশ সমাবেশ করতে দেবে না, আর বিএনপিও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাবে না।

বিএনপি এতদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে না যাওয়ার পাশাপাশি নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে অনড় ছিল। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার বিকালেও এক সংবাদ সম্মেলনে নয়া পল্টনের কথাই বলেছিলেন।  

সেই অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বুলু বলেন, “পলিটিক্যাল স্টান্ড অনেক কিছুই থাকে। আমরা সর্বশেষ কমলাপুর বলেছি।”

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হারুণ অর রশীদ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “একটি সমঝোতায় এসেছে। আমরা মিরপুর বাংলা কলেজ মাঠের কথা বলেছি, আর উনারা (বিএনপি) কমলাপুর স্টেডিয়াম।

“শুক্রবার সকালে পুলিশ দুটি মাঠ পরিদর্শন করবে এবং সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

বুলুর নেতৃত্বে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান এ জে মোহাম্মদ আলী, আহমেদ আজম খান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল।

বুলু জানান, বুধবার কার্যালয় থেকে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।

তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কথা হয়েছে। বুধবার দুজনের জামিন হয়েছে। তারা বলেছে, রোববার কোর্টে দাঁড়ালে সব নেতাদের জামিন হয়ে যাবে। তারা কোনো রিমান্ড চাইবে না বা প্রসিকিউটর কোনো প্রতিবাদ করবে না।”

নয়া পল্টনের বিএনপি কার্যালয় এখন খুলে দেওয়ার আশ্বাসও ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বুলু বলেন, “আমরা দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমরা প্রথম দাবি রেখেছি, আমাদের পার্টি অফিস খুলে দিতে। তারা বলেছে আপনারা পার্টি অফিসে যেতে পারেন কোনো সমস্যা নেই।

“তারপরে আমরা আলোচনা করেছি ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ নিয়ে’’