• মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • /
  • খবর
  • /
  • সিনেমার কায়দায় অপহরণ! তরুণীর ফোনে ফাঁদ, ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে মুক্তি পেলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা

সিনেমার কায়দায় অপহরণ! তরুণীর ফোনে ফাঁদ, ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে মুক্তি পেলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা

  • খবর
  • আপন ঘর ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ ২ এপ্রিল ২০২৫

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় চাঞ্চল্যকর এক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এক তরুণীর ফোন কলে প্রতারিত হয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা। পরিকল্পিত ফাঁদে ফেলে তাঁকে অপহরণ করে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়। মুক্তিপণের জন্য দাবিকৃত তিন কোটি টাকার পরিবর্তে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে মুক্তি পান তিনি।

কীভাবে ফাঁদে ফেলা হলো?

সরকারি কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে হঠাৎই এক তরুণীর বার্তা আসে। পরিচয় দেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে। নানা অজুহাতে সাহায্যের আবেদন করেন। একপর্যায়ে সরাসরি দেখা করার অনুরোধ করেন।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি, কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা হয় যমুনা ফিউচার পার্কে। সেখানে তরুণীর সঙ্গে দুই যুবকও ছিলেন। কথা বলার একপর্যায়ে তিনি কিছুটা অস্বাভাবিক অনুভব করেন। তরুণীর সঙ্গে রিকশায় ওঠার পরপরই দুই যুবক তাঁকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যান।

২২ ঘণ্টা বন্দিদশা, প্রাণনাশের হুমকি

সেখানে সাত-আটজন যুবক কর্মকর্তাকে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফেরার পর দেখতে পান, তিনি বিবস্ত্র। এরপরই ভয়ংকর শুরু! তাঁর সঙ্গে থাকা এক তরুণীর মাধ্যমে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। এরপর তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে অপহরণকারীরা।

কর্মকর্তা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে, গলায় বঁটি ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ভয় পেয়ে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং অপহরণকারীদের দেওয়া ব্যাংক হিসাবে ১৫ লাখ টাকা পাঠানো হয়। এরপর আরও ২৫ লাখ টাকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অপহরণকারী চক্রের ফাঁদে পুলিশ

ঘটনার পর ওই কর্মকর্তা ভাটারা থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ কৌশলে অপহরণকারী চক্রকে ধরার পরিকল্পনা নেয়। কর্মকর্তার প্রথম পরিচিত তরুণীকে বাকি ২৫ লাখ টাকা নেওয়ার জন্য ডাকা হয়। ২ মার্চ, যমুনা ফিউচার পার্কের কাছে টাকা নিতে এলে পুলিশ তাঁকে ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের দাবি: তাঁরা নির্দোষ

গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত তরুণী ও তাঁর সহযোগী আদালতে দাবি করেন, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং নির্দোষ। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তাঁরা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বর্তমানে তাঁরা কারাগারে রয়েছেন।

এই ভয়াবহ ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের মতে, রাজধানীতে এমন চক্র আরও সক্রিয় থাকতে পারে। সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।