দেশজুড়ে ডেঙ্গু ও সাধারণ জ্বরের প্রকোপের কারণে মাল্টার চাহিদা বেড়েছে। তবে, সরকার মাল্টা আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করেছে, ফলে প্রতি কেজিতে খরচ বেড়েছে ১৫ টাকা। বাজারে এখন মাল্টার দাম কেজিপ্রতি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা। মাল্টার মতো আরও শতাধিক পণ্য ও সেবায় শুল্ক–কর বাড়ানোর ফলে বছরে ১২ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আদায় হবে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ধারণা করছে।
বিভিন্ন ফলের ওপরও কর বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এক কেজি আপেল, মাল্টা, বা কমলার ওপর মোট করভার দাঁড়াবে ১১৬ টাকা, যা আগের চেয়ে ১৫ টাকা বেশি। একইভাবে, ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর কর ৭ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ টাকা। ফেসিয়াল টিস্যুর দামও বাড়তে পারে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা।
এনবিআর দাবি করছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক–কর বাড়ানো হয়নি, ফলে মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়বে না। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এসব পণ্যের দাম বাড়ানো হলে তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
শিল্প খাতের পণ্য ও উপকরণেও শুল্ক–কর বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে। ফলে ইস্পাত শিল্প, রঙ, ও প্লাস্টিক ক্যানের মতো পণ্যের উৎপাদন খরচও বেড়ে যাবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দাবি, শুল্ক–কর বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে পণ্যের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না।
একইসঙ্গে মুঠোফোন সেবা ও ইন্টারনেট ব্যবহারেও খরচ বেড়েছে। ১০০ টাকা রিচার্জে প্রায় ৩০ টাকা কর দিতে হচ্ছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার ওপর করের পরিমাণও বেড়েছে, ফলে ৫০০ টাকার ইন্টারনেট বিলের ওপর করভার দাঁড়িয়েছে ৭৭ টাকা।
ক্রেতারা ভ্যাট বাড়ানোর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। বিশেষ করে পোশাকের দোকানে নতুন ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ হওয়ায় ক্রেতাদের সঙ্গে বিক্রেতাদের বচসা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভ্যাটের নতুন হার কার্যকর করতে বাধ্য হলেও ক্রেতারা এখনই বাড়তি খরচ মেনে নিতে প্রস্তুত নন।
এই শুল্ক–কর বৃদ্ধির প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে এবং তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র হবে।