• মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • /
  • জীবনযাপন
  • /
  • গাজীপুর-সাভারে অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিকের দুঃস্বপ্ন: সাড়ে পাঁচ মাসে বন্ধ ৬৮ কারখানা

গাজীপুর-সাভারে অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিকের দুঃস্বপ্ন: সাড়ে পাঁচ মাসে বন্ধ ৬৮ কারখানা

  • জীবনযাপন
  • আপন ঘর ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ ২৪ জানুয়ারি ২০২৫

গত সাড়ে পাঁচ মাসে গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের শিল্পাঞ্চলে ৬৮টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৫৮টি স্থায়ীভাবে এবং ১০টি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গাজীপুর, যেখানে ৫১টি কারখানার দরজা বন্ধ হয়েছে। সাভার, আশুলিয়া এবং ধামরাইয়ে বন্ধ হয়েছে ১৭টি কারখানা।

শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন
এই ৬৮টি কারখানা বন্ধ হওয়ায় চাকরি হারিয়েছেন প্রায় অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিক। চাকরি হারানো অনেক নারী শ্রমিক নতুন কাজের সন্ধানে ব্যর্থ হয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। গাজীপুরের মাহমুদ জিনস কারখানার সাবেক কর্মী পারভীন আক্তার জানান, “পুরুষ শ্রমিকরা কিছুটা চাকরি পেলেও আমাদের মতো মধ্যবয়সী নারীরা কোনো কাজ পাচ্ছি না। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে।”

সাভারের আছিয়া আক্তারের কষ্টের গল্পও ভিন্ন নয়। তিনি বলেন, “অসুস্থ স্বামী আর দুই সন্তান নিয়ে দিন কাটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পাঁচ মাস ধরে চাকরি খুঁজছি, কিন্তু কোথাও চাকরি পাইনি।”

বিক্ষোভে উত্তাল সড়ক-মহাসড়ক
কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে এবং বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকেরা নিয়মিত বিক্ষোভ করছেন। এতে প্রায়ই ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকদের ক্ষোভ প্রশমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কারণ কী?
কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, ঋণখেলাপি, ব্যাংকের অসহযোগিতা এবং উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু কারখানামালিক আত্মগোপনে থাকায় এবং ব্যাংকের কড়াকড়ি আরোপে অনেক কারখানা রুগ্ন হয়ে পড়েছে।

কেয়া গ্রুপ ও বেক্সিমকোর সংকট
গাজীপুরের কেয়া গ্রুপ ইতিমধ্যে তাদের ছয়টি কারখানা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। প্রায় ১২ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার শঙ্কায়। অন্যদিকে, বেক্সিমকো গ্রুপ ১৬টি কারখানা লে-অফ করেছে, যেখানে কাজ করতেন প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক।

রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দাবি
শ্রম বিশেষজ্ঞ সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, বেকার শ্রমিকদের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। তিনি বলেন, “বন্ধ কারখানার সম্পত্তি বিক্রি করে শ্রমিকদের বেতন ও বেনিফিট পরিশোধ করা উচিত। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিতে হবে।”

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের যোগান দেয়। এই শিল্পের সংকট শুধু শ্রমিকদের নয়, পুরো দেশের অর্থনীতিকেই ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।