পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের অগ্রাধিকারমূলক (প্রিফারেন্স) শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে গতকাল অনুষ্ঠিত ৯১০তম কমিশন সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।
সংস্থাটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শেয়ার মানি ডিপোজিটের বিপরীতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২৫০ কোটি ৫৪ লাখ ০৪ হাজার ৯৭৬টি ইরিডিমেবল, নন-কিউমুলেটিভ প্রিফারেন্স শেয়ারের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ওই প্রিফারেন্স শেয়ার সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ইস্যু করা হবে। এ শেয়ার কোম্পানির সাধারণ শেয়ারজনিত পরিশোধিত মূলধনের অংশ হবে না।
চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) ১৯৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানিটি। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ৩৩১ কোটি ৯১ লাখ টাকা নিট লোকসান হয়েছিল।
আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় হয়েছে ১ হাজার ৯৬১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ৭৬৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ১১ শতাংশ।
চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির আর্থিক ব্যয় হয়েছে ৬১৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সুদ বাবদ ব্যয় ৪৬৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়জনিত ক্ষতি ১৪৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির আর্থিক ব্যয় হয়েছিল ১ হাজার ২৮৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সুদ বাবদ ব্যয় ছিল ৩৭৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়জনিত ক্ষতি ছিল ৯১১ কোটি ১০ লাখ টাকা। চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৭৭ পয়সা।
আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৪ টাকা ৬৬ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭৩ টাকা ৫০ পয়সায়।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে পিজিসিবির আয় হয়েছে ২ হাজার ৪৪০ কোটি ১৫ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ হাজার ৩৩৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরে বিনিময় হার ওঠানামাজনিত কারণে কোম্পানিটির ১ হাজার ২৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫৩৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ৬২৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরে কোম্পানিটির ১২১ কোটি ২৪ লাখ টাকা নিট মুনাফা হয়েছিল। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮ টাকা ৮৯ পয়সা। আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৭০ পয়সা।
সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা বাদে অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে পিজিসিবি। লোকসান হওয়ার কারণে কোম্পানিটি সংরক্ষিত আয় থেকে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ফলে আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সংরক্ষিত আয় কমে ১০৪ কোটি ৫২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭৪০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।