• বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • /
  • পুঁজিবাজার
  • /
  • আট লিজিং কোম্পানি বন্ধের পথে: দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা

আট লিজিং কোম্পানি বন্ধের পথে: দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা

  • পুঁজিবাজার
  • স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
  • প্রকাশিতঃ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শেয়ারবাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর সিদ্ধান্তে। দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি আর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় অচল হয়ে পড়া ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে ৮টি প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রাইম ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুরবস্থা এতটাই মারাত্মক যে বিনিয়োগকারীরা মূলধন ফেরত পাওয়ার আশা প্রায় হারিয়েছেন। কিছু প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে। দায় শোধের মতো সম্পদও নেই, ফলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের পুঁজি ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

বিলুপ্তির প্রক্রিয়ায় প্রথমে বহিঃঋণদাতারা, এরপর আমানতকারীরা, তারপর ডিবেঞ্চার হোল্ডার ও অগ্রাধিকারমূলক শেয়ারহোল্ডাররা টাকা ফেরত পাবেন। তালিকার একেবারে শেষ অবস্থানে থাকায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ক্ষতিপূরণে দায়ী পরিচালক ও স্পন্সরদের ব্যক্তিগত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা উচিত।

সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই শেয়ারবাজারে এসব প্রতিষ্ঠানের দামে বড় ধস নেমেছে। গত সপ্তাহেই শেয়ারের দাম ১৯–৩৩ শতাংশ কমে গেছে। বর্তমানে অনেক শেয়ার ১০ টাকার নিচে লেনদেন হচ্ছে, কিছু শেয়ার এমনকি ২ টাকার নিচে নেমে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আশ্বস্ত করে বলেছেন, “আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষিত থাকবে। তবে স্পন্সর-পরিচালকদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।” তিনি আরও জানান, বিলুপ্তি প্রক্রিয়া ফাইন্যান্স কোম্পানি অ্যাক্ট ২০২৩ অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে সম্পন্ন হবে।

এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এখনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। সংস্থার মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে আমরা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় পদক্ষেপ নেব।” তবে বিনিয়োগকারীরা কতটা ফেরত পাবেন সে বিষয়ে নিশ্চয়তা নেই।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকট একদিনে তৈরি হয়নি। বছরের পর বছর অনিয়ম, দুর্নীতি আর সুশাসনের অভাবে এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মুখে পড়েছে। প্রশান্ত কুমার হালদারের কেলেঙ্কারি এর জ্বলন্ত উদাহরণ—যেখানে চারটি এনবিএফআই থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত হয়েছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি।