বিদায়ী সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত বাজারে আস্থার সঞ্চার করেছে, যার ফলে সূচক ও লেনদেন উভয়ই ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে। মূলত বাংলাদেশ ব্যাংক স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) বা রিভার্স রেপো হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানোর ঘোষণা দেয়, যা বাজারে নতুন করে গতি আনে। এ সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের মাঝে আশাবাদ তৈরি করে এবং মূল্যস্ফীতি কমার সম্ভাবনার পাশাপাশি প্রধান নীতিগত হার কমানোর প্রত্যাশাও বাজারে ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখতে সহায়তা করে।
সপ্তাহজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন ও সূচক দুই-ই বেড়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৩২ পয়েন্টে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ বেড়েছে ২৮ পয়েন্ট এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস বেড়েছে ১৯ পয়েন্ট। এদিকে পুরো সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৪০৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের ২ হাজার ৫৪৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার তুলনায় ৭.১৪ শতাংশ বেশি।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৯৪টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৯০টির দর বেড়েছে, ৮০টির কমেছে এবং ২৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল। ১৯টি কোম্পানির কোনো লেনদেন হয়নি। উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ এবং খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক খাত ৪৬২ কোটি ৭ লাখ টাকা লেনদেন করে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৩.৫৬ শতাংশ দখলে রেখেছে। এরপর রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত, যেখানে লেনদেন হয়েছে ৪২৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা (১২.৬০ শতাংশ), এবং বস্ত্র খাত ৩৭৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা (১১.০৩ শতাংশ)। এছাড়াও খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত এবং প্রকৌশল খাত যথাক্রমে ৯.৫০ ও ৯.৩৩ শতাংশ লেনদেন নিয়ে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে ছিল।
সব খাতেই গড়ে ইতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রিটার্ন এসেছে কাগজ ও মুদ্রণ খাতে, যা ৬.২৭ শতাংশ বেড়েছে। এরপর রয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত (৫.৩৬%), পাট খাত (৫.১৮%), জীবন বীমা (৪.৩৫%) এবং সাধারণ বীমা খাত (২.৯৭%)।
শুধু ঢাকা নয়, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল। সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১.৭৯ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৩৩০ পয়েন্টে পৌঁছেছে এবং সিএসসিএএক্স সূচক ১.৭০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৭৪৫ পয়েন্টে। তবে লেনদেনের দিক থেকে সিএসই কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহে সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের ৭৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সেখানে মোট ৩৪১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেনে অংশ নেয়; এর মধ্যে ২৩৭টির দর বেড়েছে, ৭৫টির কমেছে এবং ২৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
সার্বিকভাবে বলা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত, স্থিতিশীল নীতিগত বার্তা এবং কিছু মৌলভিত্তির ইতিবাচক ইঙ্গিত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে এনেছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে আগামীতেও শেয়ারবাজারে ইতিবাচক গতি বজায় থাকবে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।