কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, একসময় লাভজনক এই কোম্পানি অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ধীরে ধীরে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতাসীন দলের সুবিধাভোগীদের নিয়ন্ত্রণে আসার পর থেকেই কোম্পানির কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম শুরু হয়।
২০২২ সাল থেকেই লোকসানের অঙ্ক বাড়ছে, যা এ বছর শতকোটির ঘর ছাড়িয়েছে। ২০২২ সালে শেষবারের মতো ৭.৫% বোনাস লভ্যাংশ দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আর্থিক দুর্বলতার কারণে এনটিসিকে ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।
গত আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এনটিসির আর্থিক সংকট আরও তীব্র হয়। শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে না পারায় তারা ধর্মঘটে নামেন। পরবর্তীতে সরকারি হস্তক্ষেপে কৃষিব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এই সংকট সাময়িকভাবে মেটানো হয়।
চমকপ্রদভাবে, বড় অঙ্কের লোকসানের খবরেও রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এনটিসির শেয়ারের দাম ৭০ পয়সা বেড়ে ১৯০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩৫% সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাতে, বাকি ৬৫% ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিয়ন্ত্রণে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ন্যাশনাল টি কোম্পানির এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। অন্যথায়, একসময় লাভজনক এই কোম্পানির ভবিষ্যৎ আরও অন্ধকার হতে পারে।