বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমস্যাগ্রস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ফরেনসিক অডিট কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০ আগস্ট (বুধবার) গ্লোবাল অডিট ফার্ম ডেলয়েট বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে আইএফআইসি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। এ প্রক্রিয়া শেষে ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে— একীভূত, অধিগ্রহণ, বিলুপ্ত অথবা নতুন মূলধন সংযোজন।
এর আগে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং এবং কেপিএমজি ছয়টি ব্যাংকের সম্পদ যাচাই করেছিল। প্রতিবেদনে উঠে আসে, ঘোষিত খেলাপি ঋণ আসল পরিস্থিতির তুলনায় প্রায় চার গুণ কম দেখানো হয়েছিল।
বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১১টি ব্যাংকের AQR করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, মেঘনা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবি, এনআরবিসি, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও ইউসিবি।
অডিট শেষে প্রতিটি ব্যাংকের প্রকৃত খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি, মূলধন ঘাটতি এবং আমানত-ঋণের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পাবে। একই সঙ্গে কোন ব্যাংক একীভূত করতে কত মূলধন প্রয়োজন, সেটিও নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংককে বিদেশি মালিকানার কারণে একীভূত প্রক্রিয়া থেকে বাইরে রাখা হলেও বাকি পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংককে একটি নতুন প্রতিষ্ঠানে একীভূত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংক একীভূত করতে প্রয়োজন হবে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার থেকে চাইতে হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক এবং ‘ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ফান্ড’ থেকেও সহায়তা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।