• বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • /
  • পুঁজিবাজার
  • /
  • পুঁজিবাজারে অর্থ প্রবাহের আশা আবু আহমেদের

পুঁজিবাজারে অর্থ প্রবাহের আশা আবু আহমেদের

জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে সুদহার কমার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা পুঁজিবাজারে অর্থ প্রবাহ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ।

সোমবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে “বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

প্রণোদনার অভাবে ভালো কোম্পানিগুলোকে আকর্ষণ কঠিন

অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, “পুঁজিবাজারে প্রাইস সেনসেটিভ ইনফরমেশনের অনেক ক্ষেত্রেই সত্যতা থাকে না। শেয়ার মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং আর্থিক প্রতিবেদনের সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে হলে বিশেষ প্রণোদনা প্রয়োজন।”

তিনি আরও জানান, আইসিবিকে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া তহবিল পুঁজিবাজারের স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে।

দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে পুঁজিবাজারের বিকল্প নেই

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, “ব্যাংক নির্ভর অর্থায়ন থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজারই হতে পারে উপযুক্ত মাধ্যম। তবে এজন্য মানসিকতার পরিবর্তন দরকার।”

তিনি উল্লেখ করেন, পুঁজিবাজারের প্রতি সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আইসিবিকে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আইন ও নীতি সংস্কার প্রয়োজন

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিক বলেন, “পুঁজিবাজারে সুশাসনের অভাব রয়েছে। আইপিওর প্রাইসিং পলিসি নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা উচিত। পাশাপাশি, প্রাইস সেনসেটিভ তথ্য এবং আর্থিক প্রতিবেদনের মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ প্রয়োজন

বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ক্যাপিটালের সিইও সুমিত পোদ্দার বলেন, “ফ্লোর প্রাইস পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বুঝাতে হবে যে এটি আর ফিরবে না। পাশাপাশি, ফাইন্যান্সিয়াল লিটেরেসি বাড়িয়ে বাজার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।”

প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ

বিএসইসির সাবেক কমিশনার আরিফ খান বলেন, “মিউচুয়াল ফান্ড উন্নয়নের মাধ্যমে বাজারে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব। এছাড়া আর্থিক প্রতিবেদনের সঠিকতা নিশ্চিত করতে ফরেন্সিক অডিট চালুর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।”

এক্সপোজার নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, “সিঙ্গেল ব্রোয়ার এক্সপোজার নীতিমালা বাজার স্থিতিশীলতার পর আরও নমনীয় করা হতে পারে। ইক্যুয়িটি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্যাংকগুলোকেও নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

পুঁজিবাজার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের আহ্বান

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া পুঁজিবাজার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে না বলে মত দিয়েছেন আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা। বাজারের সুশাসন, তথ্যের স্বচ্ছতা, এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।