বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) গঠিত তদন্ত কমিটি চারটি কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, দুই সাবেক কমিশনার এবং বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
তদন্ত কমিটির জমা দেওয়া চারটি রিপোর্ট বেক্সিমকো গ্রীন-সুকুক আল ইসতিসনা, আইএফআইসি শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রীন জিরো কুপন বন্ড, বেস্ট হোল্ডিংস ও কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেডের অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন সংক্রান্ত দুর্নীতি উন্মোচন করেছে।
প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, বিএসইসির দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরও বিএসইসি তা প্রকাশ করছে না, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইতোমধ্যে সংস্থার সাত কর্মকর্তার পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে এবং দুদকের তদন্তে বিএসইসি ব্যাপক চাপে রয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এক পরিচালক বলেন, "তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে গোপনীয়তা রাখার কিছু নেই। কমিশন যদি নিজেদের স্বচ্ছ দাবি করে, তবে রিপোর্ট প্রকাশ করাই উচিত।"
এদিকে, বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী এ বিষয়ে বলেন, "যদি তদন্ত কমিটি পাঁচ মাসেও রিপোর্ট সম্পূর্ণ দিতে না পারে, তবে এর প্রয়োজনীয়তা নেই।"
প্রথমে ১২টি কোম্পানির তদন্তের নির্দেশ থাকলেও, মাত্র ৪টির রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ আগে জানিয়েছিলেন, "পুঁজিবাজারের অনিয়ম ও দুর্নীতি উন্মোচন করতেই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।" এখন দেখার বিষয়, কমিশন আদৌ সেই প্রতিশ্রুতি রাখে কি না!