• বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • /
  • পুঁজিবাজার
  • /
  • বেক্সিমকো টেক্সটাইলস বন্ধ: চাকরি হারাচ্ছে ৩৫,০০০ শ্রমিক

বেক্সিমকো টেক্সটাইলস বন্ধ: চাকরি হারাচ্ছে ৩৫,০০০ শ্রমিক

আলোচিত বেক্সিমকো টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল ডিভিশনের অধীন কারখানাগুলো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সকল শ্রমিককে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শ্রমিকদের সকল পাওনা আগামী ৯ মার্চ থেকে পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও শ্রম মন্ত্রণালয় এসব পাওনার অর্থের যোগান দেবে এবং সরাসরি শ্রমিকদের পরিশোধের দায়িত্ব পালন করবে।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রম ও ব্যবসা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেক্সিমকো টেক্সটাইলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি কারখানা বন্ধের নোটিশে স্বাক্ষর করেন।

নোটিশে জানানো হয়েছে, গাজীপুরের কাশিমপুরে অবস্থিত বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ১৪টি প্রতিষ্ঠান (ইয়ার্ন ইউনিট-১ ব্যতীত) কর্মী সংকোচনের আওতায় পড়ছে। শ্রম আইন অনুযায়ী, গত ১৬ ডিসেম্বর ও ৫ ফেব্রুয়ারি কারখানাগুলোর লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে কাজের সংস্থান না থাকায় চূড়ান্তভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বেক্সিমকো টেক্সটাইলসের হিসাব অনুযায়ী, কারখানাগুলোতে মোট শ্রমিক ছিল ৪৫,০০০, যার মধ্যে বর্তমানে ৩৫,০০০ জন কর্মরত। শ্রম আইন অনুযায়ী, তাদের পাওনা পরিশোধে ৫৫০-৬০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। তবে বেক্সিমকো গ্রুপ সরকারের কাছে ৪০০ কোটি টাকা সহায়তা চাইলেও তা মঞ্জুর হয়নি।

এদিকে, বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার ও শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান গত আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

বেক্সিমকো গ্রুপের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে কোম্পানির শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বেক্সিমকো শিল্প পার্কের আওতাধীন ৩১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬টি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিপুল ব্যাংক ঋণ থাকায় এবং কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

বেক্সিমকো গ্রুপ দাবি করেছে, তাদের টেক্সটাইল ও পোশাক বিভাগ গত কয়েক বছর ধরে সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে আসছে। গত ছয় বছরে গড় মাসিক রপ্তানি ৩২ মিলিয়ন ডলার হলেও, ২০২২ সালে তা ৫৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।