দেশের শীর্ষ টেলিকম কোম্পানি রবি আজিয়াটা গত বছর উল্লেখযোগ্য মুনাফা বৃদ্ধি করেছে। ২০২৫ অর্থবছর শেষে কোম্পানিটির মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৯৩৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩৬ কোটি টাকা বেশি। ২০২৪ সালে রবির মুনাফা ছিল ৭০২ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ।
পর্ষদ সভায় হিসাব চূড়ান্ত
গতকাল বৃহস্পতিবার রবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় বছরের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। সভা শেষে এক বিজ্ঞপ্তিতে মুনাফার এই তথ্য জানানো হয়।
লভ্যাংশে ইতিহাস
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে রবি শেয়ারধারীদের জন্য সাড়ে ১৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এতে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১ টাকা ৭৫ পয়সা করে। তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এটিই কোম্পানিটির সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা।
আগের বছরের তুলনায় বেশি
২০২৪ সালে রবি শেয়ারধারীদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। তার আগের বছরগুলোতে ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালে যথাক্রমে ৫, ৭ ও ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল। রবি ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।
৯১৭ কোটি টাকা বিতরণ
ঘোষিত লভ্যাংশের বিপরীতে রবি মোট বিতরণ করবে প্রায় ৯১৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা পাবেন প্রায় ৬৯ কোটি টাকা। উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে থাকা ৯০ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে যাবে প্রায় ৮২৫ কোটি টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা পাবেন প্রায় ২৩ কোটি টাকা।
শেয়ারদরে দরপতন
লভ্যাংশ ঘোষণার দিনেই রবির শেয়ারদর কমেছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এ কোম্পানিটির শেয়ারদর সোয়া ২ শতাংশ বা ৭০ পয়সা কমে দাঁড়ায় ৩০ টাকা ৮০ পয়সায়। এদিন প্রায় ১০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।
গ্রাহক ও আয়চিত্র
গত বছর শেষে রবির সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৭৪ লাখে। এর মধ্যে ডাটা গ্রাহক ৪ কোটি ৪৫ লাখ। ২০২৫ সালে ভয়েস কল থেকে রাজস্ব আয় প্রায় ৩ শতাংশ কমলেও ডাটা থেকে আয় বেড়েছে ৫ শতাংশের বেশি। বছরে মোট ব্যবসা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।
এমডির মন্তব্য
রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী জিয়াদ সাতারা বলেন, ভয়েস কল থেকে আয় কমলেও ডাটা ব্যবহারের প্রবৃদ্ধির কারণে আয়ে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।