শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আনতে ন্যূনতম মূলধনের শর্ত পূরণে আবারও ৬০টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির কাছে রোডম্যাপ চেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
ঈদের ছুটির আগেই কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিয়ে এই নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত থাকতে হলে ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন থাকা বাধ্যতামূলক—এ বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়েছে বিএসইসি।
এর আগেও এসব কোম্পানিকে মূলধন বাড়াতে বলা হয়েছিল, তবে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান তা মানেনি। এবার যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হবে, তাদের SME বা অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (ATB) স্থানান্তরের সতর্কবার্তা দিয়েছে কমিশন।
বিএসইসির একজন কর্মকর্তা জানান, স্বল্প মূলধনের স্টক অস্থির প্রকৃতির হয় এবং এগুলোতে সহজেই কারসাজি হয়, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কমিশন চায়, কোম্পানিগুলো প্রকৃত অর্থ সংগ্রহ করে আর্থিক ভিত্তি মজবুত করুক, স্টক ডিভিডেন্ড দিয়ে মূলধন বাড়ানোর পথ গ্রহণযোগ্য নয়।
২০২১ সালেও একই উদ্যোগ নিয়েছিল বিএসইসি। সে সময় ৬৪ কোম্পানিকে পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয় এবং একটি কমিটি গঠন করে কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থার মূল্যায়ন করা হয়েছিল।
বর্তমানে রোডম্যাপ চাওয়া ৬০ কোম্পানির মধ্যে ১১টির মূলধন ৫ কোটির নিচে, ১৫টির ১০ কোটির নিচে, ২১টির ২০ কোটির নিচে এবং বাকিগুলোর ৩০ কোটির নিচে।
যদিও কিছু কোম্পানি ভালো পারফর্ম করছে, অনেকেই লোকসানে রয়েছে কিংবা কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। তবু কয়েকটি শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে, যা বাজারে অস্বাভাবিক আচরণ ও শঙ্কার ইঙ্গিত দেয়।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোক্তা-পরিচালকদের অনেকেই মূলধন বাড়াতে আগ্রহী নন, বরং তারা স্বল্প মূলধনকেই একধরনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন। তবে বিএসইসির সাম্প্রতিক পদক্ষেপ বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ই বলে দেবে।