• বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • /
  • পুঁজিবাজার
  • /
  • ১৫ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট জয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্ত: বাংলাদেশের জয় ১০১ রানে

১৫ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট জয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্ত: বাংলাদেশের জয় ১০১ রানে

  • পুঁজিবাজার
  • স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
  • প্রকাশিতঃ ৪ ডিসেম্বর ২০২৪

কিংস্টনে স্বপ্নের জয়

অপেক্ষার অবসান! ১৫ বছর পর আবারও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। কিংস্টনের স্যাবাইনা পার্কে ১০১ রানের দাপুটে জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে সমতা আনল মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল।

শেষ দিনে নাহিদ রানার দুর্দান্ত ইয়র্কারে শামার জোসেফের স্টাম্প ভেঙে জয়ের মুহূর্তটি নিশ্চিত হয়। ২৮৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে নামা স্বাগতিকদের দ্বিতীয় ইনিংস মাত্র ১৮৫ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। এ জয়ে ২০০৯ সালের গ্রেনাডা টেস্টের পর প্রথমবার ক্যারিবীয়দের মাটিতে জয় পেল টাইগাররা।


টেস্টে ছন্দে ফিরে মিরাজের দল

সিরিজের প্রথম টেস্টে হারের পর অনেকটা চাপে ছিল বাংলাদেশ। তবে কিংস্টনে প্রথম ইনিংস থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় মিরাজের দল। তাইজুল ইসলামের ৫ উইকেট এবং ব্যাট হাতে জাকের আলীর ৯১ রানের অনবদ্য ইনিংস ছিল ম্যাচ জয়ের মূল ভিত। দ্বিতীয় ইনিংসে আলজারি জোসেফ ও কেমার রোচদের সামাল দিয়ে ২৬৮ রান তোলে বাংলাদেশ, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ১৬৪ ও ২৬৮
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৪৬ ও ১৮৫

ফল: বাংলাদেশ ১০১ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তাইজুল ইসলাম
সিরিজ ফলাফল: ১-১ সমতা


ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত

তাইজুলের স্পিন-জাদু

পেসারদের তুলনায় স্পিনারদের জন্য আদর্শ পিচে তাইজুল ছিলেন দুর্বার। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিবীয় ব্যাটিং অর্ডার ভেঙে দেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

জাকের আলীর দুর্দান্ত ইনিংস

প্রথম সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও জাকের আলীর ৯১ রানের লড়াকু ইনিংস বাংলাদেশের লিড বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শেষের নাহিদ রানা ঝলক

ম্যাচ শেষ করেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। তাঁর ইয়র্কারে লং স্টাম্প ভেঙে শেষ উইকেট তুলে নেওয়ার মুহূর্তটি ছিল উল্লাসের কেন্দ্রবিন্দু।


সিরিজের প্রাপ্তি

এই জয়ে টেস্টে নতুন আত্মবিশ্বাস পেল বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদ সিরিজের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজের জায়গা শক্ত করেছেন। অন্যদিকে, স্পিনার তাইজুলও প্রমাণ করলেন কেন তিনি দেশের সেরা টেস্ট স্পিনারদের একজন।

এখন সামনে অপেক্ষা ২০২৫ সালের নতুন চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ দলের জন্য এটি শুধু একটি জয় নয়, বরং টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।


ক্রিকেট ভক্তদের জন্য এটি ছিল আবেগে ভরপুর এক ম্যাচ। এই ঐতিহাসিক জয়ের স্বাদ ভুলবে না বাংলাদেশ।