• বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • /
  • পুঁজিবাজার
  • /
  • ২০৫ প্রভাবশালীর নেটওয়ার্ক: পুঁজিবাজারের পতনের কালো চিত্র

২০৫ প্রভাবশালীর নেটওয়ার্ক: পুঁজিবাজারের পতনের কালো চিত্র

আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৫ বছরে শেয়ারবাজারে কারসাজি ও দুর্নীতির মাধ্যমে গড়ে ওঠা শক্তিশালী চক্র পুঁজিবাজারকে বিপর্যস্ত করেছে বলে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে চক্রের সদস্যরা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) সময় জালিয়াতি, প্লেসমেন্ট-বাণিজ্য এবং শেয়ার কারসাজির মাধ্যমে জনগণের ১ লাখ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। ২০১০ সালের তদন্ত প্রতিবেদনের পরও কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া এবং চক্রের সদস্যদের দায়মুক্তি বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে নামিয়েছে। বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজার এশিয়ায় কেবল কম্বোডিয়ার চেয়ে এগিয়ে আছে।


সিপিডির গবেষণা অনুসারে, ৫০ শতাংশ ব্যবসায়ী শেয়ারবাজারে লেনদেন কারসাজি বলে মনে করেন, আর ৫৩.১ শতাংশ বিএসইসির কার্যক্রমকে দুর্বল বলছেন। এছাড়া, আইপিওতে আসা কোম্পানির ৫৬.৩ শতাংশই দুর্বল, যেখানে ২০২২ সাল দুর্বল কোম্পানির শীর্ষ বছর ছিল।


ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, “১৫ বছরের দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরায় কমিটিকে ধন্যবাদ। শেয়ার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।” তিনি শেয়ারবাজারের দুর্দশার জন্য সাবেক কমিশনারদের দায়ী করেন।


প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, ২০৫ প্রভাবশালী উদ্যোক্তা গোষ্ঠী, ইস্যু ম্যানেজার, নিরীক্ষক ও বিনিয়োগকারীদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে, যারা সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ায়। শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়ায় কারসাজির মাধ্যমে কোম্পানির মূল্যায়ন গোপন করা হয়। মিউচুয়াল ফান্ড দখল এবং সময়কাল বর্ধিত করার কারণে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারান।


ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, “শ্বেতপত্রের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিগত ১৫ বছরের অরাজকতা প্রকাশ পেয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বাজারকে পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর নির্দেশনা থাকতে হবে।”