১৮ কোম্পানিতে ৬ মাসে ৩১ শতাংশের বেশি মুনাফা
চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে শেয়ারবাজারের সব সূচকই কমেছে এবং লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম কমেছে। জানুয়ারি ০১ তারিখে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ছিল ৫ হাজার ২১৮ পয়েন্ট। ৩০ জুন, ২০২৫ তারিখে ৬ মাসের ব্যবধানে ডিএসইর সূচক ৩৮০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৩৮ পয়েন্টে। বাজারের এমন পরিস্থিতিতে ১৮ কোম্পারি শেয়ারে বিনিয়োগ করে ৬ মাসের ব্যবধানে ৩০ থেকে ১০৪ শতাংশের বেশি মুনাফা পেয়েছে বিনিয়োগকারীরা। ডিএসইর বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।
গত ছয় মাসে ডিএসইতে মোট ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে ০.১৩ শতাংশ থেকে ১০৪.৬২ শতাংশ পর্যন্ত। এর মধ্যে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস সর্বোচ্চ ১০৪.৬২ শতাংশ এবং এস আলম কোল্ড রোল স্টিল ৯৭ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫১ শতাংশের বেশি মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে ৭টি কোম্পানি, ৩১-৫০ শতাংশের মধ্যে বেড়েছে ১১টি প্রতিষ্ঠানের ১৫-৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে ২৩টি প্রতিষ্ঠানের । এছাড়া বাকি ৮৪টি প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে ০.১৩ শতাংশ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত।
বছরের প্রথমার্ধের ৬ মাসে সর্বোচ্চ দর বেড়েছে ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর ১ হাজার ৩৬৩ টাকা ২০ পয়সা বা ১০৪.৬২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৬৬ টাকা ২০ পয়সায়, যা গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। কোম্পানিটিতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করা হয়েছে গত ৬ মাসে তার চেয়ে বেশি মুনাফা হয়েছে। গত ৬ মাসের মধ্যে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দর ছিল ১ হাজার ২৮৮ টাকা ৫০ পয়সা।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর বেড়েছে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলের। গত ৬ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৯ টাকা ৭০ পয়সা বা ৯৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৭০ পয়সায়। কোম্পানিটির শেয়ারে গত ৬ মাসে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করা হয়েছে প্রায় সেই পরিমাণ মুনাফা হয়েছে। গত মাসের মধ্যে গত ৭ জানুয়ারি কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দর ছিল ৯ টাকা ৩০ পয়সা এবং ২০ মার্চ সর্বোচ্চ দর ছিল ৩১ টাকা ৫০ পয়সায়। অর্থাৎ ৩ মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটিতে বিনিয়োগের ৩ গুনের বেশি মুনাফা হয়েছে।
গত ৬ মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এসইএমএল লেকচার ফান্ডের। আলোচ্য সময়ে ফান্ডটির ইউনিট দর ৫ টাকা ৬০ পয়সা বা ৯১.৮০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৭০ পয়সায়। গত ৬ মাসে বিনিয়োগের সমপরিমাণ মুনাফা হয়েছে এই ফান্ডের ইউনিটে। গত ২ জানুয়ারি ৬ মাসের মধ্যে ফান্ডটির সর্বনিম্ন দর ছিল ৬ টাকা ১০ পয়সা। যা গত ৬ মে সর্বোচ্চ ১৪ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ৪ মাসের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগের তুলনায় মুনাফা হয়েছে দ্বিগুনেরও বেশি।
৫০ শতাংশের বেশি মুনাফা হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে- খুলনা প্রিন্টিংয়ের ৭ টাকা ৬০ পয়সা বা ৮১.৭২ শতাংশ, সিএপিএমবিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৪ টাকা ৩০ পয়সা বা ৭৪.১৪ শতাংশ, শাইনপুকুর সিরামিকসের ৮ টাকা ৫০ পয়সা বা ৬৯.৬৭ শতাংশ এবং সি পার্ল হোটেলের ১৯ টাকা ৮০ পয়সা বা ৫৭.৫৬ শতাংশ দর বেড়েছে।
৩০ শতাংশের বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে- বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের ৪ টাকা ৮০ পয়সা বা ৪৮.৪৮ শতাংশ, হাক্কানি পাল্পের ২০ টাকা ৫০ পয়সা বা ৪৬.৫৯ শতাংশ, ইয়াকিন পলিমারে ৪ টাকা বা ৪৩.০১ শতাংশ, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৫ টাকা ৪০ পয়সা বা ৪২.০৮ শতাংশ, জিকিউ বলপেনের ৪৭ টাকা ৩০ পয়সা বা ৩৮.৬৮ শতাংশ, ইন্দোবাংলা ফার্মার ৩ টাকা ৬০ পয়সা বা ৩৭.৮৯ শতাংশ, এসিআই লিমিটেডের ৪৮ টাকা ৬০ পয়সা বা ৩৪.৭৯ শতাংশ, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ১ টাকা ৩০ পয়সা বা ৩৩.৩৩ শতাংশ, দেশ গার্মেন্টেসের ২৬ টাকা বা ৩২.৯১ শতাংশ, ডেল্টা স্পিনার্সের ১ টাকা ৪০ পয়সা বা ৩২.৫৬ শতাংশ এবং এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৩১.২৫ শতাংশ দর বেড়েছে।
২০ কোম্পানিতে ৬ মাসে ৩০ শতাংশের বেশি লোকসান
চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক প্রায় ৩৮০ পয়েন্ট কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম। জানুয়ারি ১ তারিখে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ছিল ৫ হাজার ২১৮ পয়েন্ট। যা ৩০ জুন, ২০২৫ তারিখে কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৩৮ পয়েন্টে। বাজারের এমন পরিস্থিতিতে ২০ কোম্পারি শেয়ারে বিনিয়োগ করে গত ৬ মাসে ৩০ শতাংশের বেশি লোকসান হয়েছে বিনিয়োগকারীদেরা। ডিএসইর বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।
বছরের প্রথমার্ধের ৬ মাসে ২৬০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে, যার হার ০.০৪ শতাংশ থেকে ৫০.২২ শতাংশ পর্যন্ত। এর মধ্যে ২০টি প্রতিষ্ঠানের দাম ৩০ শতাংশের ওপর থেকে ৫০.২২ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, ৮৭টি প্রতিষ্ঠানের দাম ১৫ শতাংশের ওপর থেকে ৩০ শতাংশের কম পর্যন্ত কমেছে এবং বাকি ১৫৩টি প্রতিষ্ঠানের দাম ০.০৪ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশের কম কমেছে। এই ছয় মাসে সর্বোচ্চ দাম কমেছে আলিফ ইন্ডাষ্ট্রিজের (৫০.২২ শতাংশ) এবং বিচ হ্যাচারির (৪৭.৮৪ শতাংশ)। এছাড়া, ৬৫টি প্রতিষ্ঠানের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর কমেছে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের। গত ৬ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৪৬ টাকা ৪০ পয়সা বা ৫০.২২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকায়। গত ৬ মাসে কোম্পনিটির সর্বোচ্চ দর ছিল ৯৫ টাকা ৯০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন দর ৪১ টাকা ৩০ পয়সা।
আলোচ্য সময়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর কমেছে বিচ হ্যাচারির। গত ৬ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৪৪ টাকা ৩০ পয়সা বা ৪৭.৮৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ৩০ পয়সায়। ৬ মাসের মধ্যে কোম্পানিটির সর্বোচ্চ দর ছিল ১২৪ টাকা ৪০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন দর ৪১ টাকা ১০ পয়সা।
ছয় মাসের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬ টাকা ২০ পয়সা বা ৪৬.২৭ শতাংশ কমে ৭ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে সাইফ পাওয়ারটেকের শেয়ার দর। আলোচ সময়ে কোম্পানিটির সর্বোচ্চ দর ছিল ১৩ টাকা ২০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন দর ৬ টাকা ৯০ পয়সায়।
বছরের প্রথম ৬ মাসে ৩০ শতাংশের বেশি দাম কমা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে- ইউনিয়ন ব্যাংকের ২ টাকা বা ৪০.৪২ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ২ টাকা বা ৪০ শতাংশ, উত্তরা ফাইন্যান্সের ৬ টাকা ২০ পয়সা বা ৩৮.৯৯ শতাংশ, বে-লিজিংয়ের ২ টাকা ৭০ পয়সা বা ৩৮.৫৭ শতাংশ, এসএস স্টিলের ৩ টাকা ২০ পয়সা বা ৩৭.২১ শতাংশ, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ১০ টাকা ৮০ পয়সা বা ৩৬.৮৬ শতাংশ, সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইলের ১ টাকা ৮০ পয়সা বা ৩৬.৭৩ শতাংশ, আমরা নেটওয়ার্কের ৯ টাকা ৮০ পয়সা বা ৩৬.৭০ শতাংশ, এসকে ট্রিমসের ৫ টাকা ৬০ পয়সা বা ৩৫.২২ শতাংশ, প্রগতী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪৩ টাকা ৭০ পয়সা বা ৩৩.৫৯ শতাংশ, আমরা টেকনোলোজিসের ৫ টাকা ৪০ পয়সা বা ৩১.৭৬ শতাংশ, জেনারেশন নেক্সটের ১ টাকা ২০ পয়সা বা ৩১.৫৮ শতাংশ, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের ৭ টাকা ১০ পয়সা বা ৩০.৮৭ শতাংশ, ইউনিয়ন ক্যাপিটালের ১ টাকা ৯০ পয়সা বা ৩০.৬৫ শতাংশ, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩১ টাকা ৯০ পয়সা বা ৩০.৫০ শতাংশ, মেঘনা কনডেন্স মিল্কের ৮ টাকা ২০ পয়সা বা ৩০.০৪ শতাংশ এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের ১ টাকা ৫০ পয়সা বা ৩০ শতাংশ দাম কমেছে।