• বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • /
  • ব্যাংক-বীমা
  • /
  • ট্রেজারি বন্ডেই ভরসা! সুদ আয়ের বদলে বিনিয়োগে মুনাফা বাড়াচ্ছে ব্যাংকগুলো

ট্রেজারি বন্ডেই ভরসা! সুদ আয়ের বদলে বিনিয়োগে মুনাফা বাড়াচ্ছে ব্যাংকগুলো

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংক গত বছরের প্রথম ৯ মাসে অর্থনৈতিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে। তারা সম্মিলিতভাবে মোট ২১,৬২৫ কোটি টাকা প্রকৃত সুদ আয় করেছে, যা তাদের বিনিয়োগ আয়ের তুলনায় কম। অপরদিকে, বিনিয়োগ থেকে আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮,১৩০ কোটি টাকা, যা বেশকিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে সুদ আয়কে ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ, ব্যাংকগুলোর মূল ব্যবসার তুলনায় বিনিয়োগ থেকে আয়ের প্রবণতা বাড়ছে।

ব্যাংকগুলোর সুদ আয় কমার কারণ

গত কয়েক বছর ধরে অর্থনৈতিক স্থবিরতা, সরকারের ঋণ কেলেঙ্কারি এবং ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ব্যাংকগুলো তাদের মূল ব্যবসায় সুদ আয় থেকে কম লাভ করছে। পাশাপাশি, ঋণ কেলেঙ্কারির হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণেও আরও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। ফলস্বরূপ, তারা ট্রেজারি বিল, বন্ড এবং অন্যান্য সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করে মুনাফা অর্জন করছে।

শীর্ষ বিনিয়োগ আয়কারী ব্যাংকগুলো

১. ব্র্যাক ব্যাংক – ১,৯৬৫ কোটি টাকা (প্রকৃত সুদ আয়: ১,২৫৮ কোটি টাকা) ২. পূবালী ব্যাংক – ১,৪১৯ কোটি টাকা (প্রকৃত সুদ আয়: ১,১৯৫ কোটি টাকা) 3. রূপালী ব্যাংক – ১,৩০৩ কোটি টাকা ৪. সিটি ব্যাংক – ১,০১২ কোটি টাকা ৫. ব্যাংক এশিয়া – ৯৮০ কোটি টাকা ৬. ইস্টার্ণ ব্যাংক – ৭৮৯ কোটি টাকা ৭. সাউথইস্ট ব্যাংক – ৬৯৭ কোটি টাকা ৮. প্রাইম ব্যাংক – ৬৯৩ কোটি টাকা ৯. ডাচ্–বাংলা ব্যাংক – ৬৬২ কোটি টাকা ১০. মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক – ৬৫৫ কোটি টাকা

বিশেষত, রূপালী ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের প্রকৃত সুদ আয় ঋণাত্মক ছিল, যার ফলে তারা ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ করে মুনাফা বাড়িয়েছে।

সুদ আয় শীর্ষ ব্যাংকগুলো

১. ইসলামী ব্যাংক – ৯,৪৩৮ কোটি টাকা ২. ডাচ্–বাংলা ব্যাংক – ২,৯৫৭ কোটি টাকা ৩. ইউসিবি – ১,০০০ কোটি টাকার বেশি ৪. ব্র্যাক ব্যাংক – ১,০০০ কোটি টাকার বেশি ৫. পূবালী ব্যাংক – ১,০০০ কোটি টাকার বেশি ৬. সিটি ব্যাংক – ১,০০০ কোটি টাকার বেশি

এছাড়া, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক-ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সুদ আয় করেছে।

ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক গতিধারা

ব্যাংকারদের মতে, বর্তমানে ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ থেকে যে উচ্চহারে মুনাফা হচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নাও হতে পারে। অর্থনীতি যদি গতি ফিরে পায় এবং ঋণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, তবে ব্যাংকগুলোর মূল ব্যবসা—সুদ আয়—আবারও বাড়তে পারে। তবে যদি বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক মুনাফায় চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে।

সারসংক্ষেপ: ব্যাংকগুলোর আয়ের বিশাল অংশ বর্তমানে বিনিয়োগ থেকে আসছে। এটি তাদের মুনাফা বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য একটি সতর্ক সংকেত।