• বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • /
  • ব্যাংক-বীমা
  • /
  • প্রিমিয়ার ব্যাংকের ভল্টে ৬০ লাখ টাকা! সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবালের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রিমিয়ার ব্যাংকের ভল্টে ৬০ লাখ টাকা! সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবালের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবালের ব্যাংকের ওপর প্রভাব কি এখনও অটুট? বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ব্যাংকের বনানী শাখার ভল্ট থেকে অবৈধভাবে রাখা ৬০ লাখ টাকা এবং ইকবালের স্বাক্ষরিত একাধিক নথি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে যা বেরিয়ে এলো

গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দল হঠাৎ প্রিমিয়ার ব্যাংকের বনানী শাখায় তদন্ত চালিয়ে দেখে, ভল্টে আগের দিনের ক্লোজিং ব্যালেন্সের তুলনায় ৬০ লাখ টাকা বেশি রয়েছে। বিষয়টি আরও সন্দেহজনক হয়ে ওঠে যখন সেখানে সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবালের স্বাক্ষরিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়া যায়।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ

প্রিমিয়ার ব্যাংকের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, কিছু অর্থ দেরিতে জমা পড়েছিল, যা নিরাপত্তার জন্য রাখা হয়েছিল। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা এখন সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইকবাল পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দ, তবুও কীভাবে সুবিধা?

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল ও তার পরিবারের ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যেই জব্দ করা হয়েছে। তারপরও কীভাবে তাদের সুবিধা দেওয়া হলো, তা এখন তদন্তের মূল বিষয়।

ইকবাল পরিবারের ব্যাংকিং সংযোগ

এইচবিএম ইকবাল দীর্ঘ ২৬ বছর প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যাংকের সুবিধা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তার ছেলে ইমরান ইকবাল ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন, যা ব্যাংকের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর মনোভাব

বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত হতে চায়, এই অর্থ কোনো অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংকের বাইরে স্থানান্তরের জন্য রাখা হয়নি।

এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশ ব্যাংক কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেয় এবং সাবেক চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা কতটা গভীর তা তদন্তে বেরিয়ে আসে কি না।