এ নির্দেশনার ফলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি ব্যাংক শাখা থেকে বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা লাভ করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ রোববার (১৬ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর এবং ২০১৫ সালের ৪ নভেম্বরের সার্কুলারগুলোর আলোকে এই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনার মূল বিষয়গুলো হলো:
✅ প্রতিটি ব্যাংক শাখা অন্তত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হবে:
জেলা, উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে কমপক্ষে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে ব্যাংকগুলোর স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে হবে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর স্বাধীনতা থাকবে।
✅ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা:
এই কার্যক্রমের আওতায় ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা তাদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে। এতে থাকছে বিভিন্ন সুবিধা, যেমন—
✅ অর্থনৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব:
শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলাই নয়, শিক্ষার্থীদের আর্থিক শিক্ষা প্রদান এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাংকগুলোকে উদ্যোগ নিতে হবে।
✅ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ:
প্রতিটি ব্যাংক শাখাকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট অফিসে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। এ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত থাকবে—
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে। এর উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি করা। ২০১১ সালে শিক্ষার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেওয়া হয়।
বর্তমানে দেশে ৫৯টি ব্যাংক স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নতুন নির্দেশনার ফলে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং শিক্ষার্থীরা সহজেই ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে। এতে ভবিষ্যতে তাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়বে এবং সঞ্চয়ের প্রবণতা গড়ে উঠবে।
👉 আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু হয়েছে কি না, তা জানার জন্য নিকটস্থ ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করুন!