আন্তর্জাতিক রেটিং প্রতিষ্ঠান মুডিস ইনভেস্টরস সার্ভিস বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান আরও কমিয়েছে। সোমবার সিঙ্গাপুর থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশের ঋণমান ‘বি১’ থেকে কমিয়ে ‘বি২’ করেছে এবং অর্থনীতির পূর্বাভাসকে ‘স্থিতিশীল’ থেকে ‘ঋণাত্মক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
মুডিস বলছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক দুর্বলতা, এবং সরকারের নগদ অর্থপ্রবাহে উচ্চ ঝুঁকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং সম্পদের মানের অবনতি এই অবস্থাকে আরও জটিল করেছে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ
মুডিসের মতে, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী ধারা দেশের ঋণ নেওয়ার ক্ষমতাকে আরও সংকুচিত করছে। পাশাপাশি, রিজার্ভের অবনতি, আইনশৃঙ্খলার অবস্থা এবং সামাজিক অস্থিরতা বিনিয়োগ পরিবেশকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। এতে আন্তর্জাতিক ঋণের সুদ বৃদ্ধির ঝুঁকি এবং বিদেশি বিনিয়োগে পতনের আশঙ্কা বাড়ছে।
রপ্তানি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা
মুডিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পণ্য সরবরাহের ব্যাঘাত এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতার কারণে রপ্তানি খাত, বিশেষত তৈরি পোশাক শিল্প, চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এর পাশাপাশি, রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপ দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে কঠিন করে তুলতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব
বিশ্বের শীর্ষ তিনটি ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থার একটি মুডিসের এমন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা বহন করে। ফিচ রেটিংস এবং এসঅ্যান্ডপি-র মতো অন্যান্য সংস্থার পর্যবেক্ষণের সঙ্গে এটি মিলিয়ে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তা না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে।