logo

আলুর দাম ৫ বছরের রেকর্ডে, সরবরাহ থাকলেও বাজারে অস্থিরতা

বিজনেস ডেস্ক

Published:29 Nov 2024, 05:18 AM

আলুর দাম ৫ বছরের রেকর্ডে, সরবরাহ থাকলেও বাজারে অস্থিরতা


দেশে আলুর সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী। রাজধানীর খুচরা বাজারে পুরনো আলুর কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অথচ নতুন আলুর সরবরাহও শুরু হয়েছে।

দামের চিত্র

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে পুরনো আলুর দাম পাঁচ টাকা বেড়েছে। ২০২৩ সালের এই সময়ে প্রতি কেজি আলুর দাম ছিল ৪৫ টাকা।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলছেন, হিমাগারে থাকা আলুর দাম কেজিতে ৩০-৩৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। তবে অসাধু ব্যবসায়ীরা আঁতাত করে দাম বাড়াচ্ছেন।

অসাধু মজুদদারদের কারসাজি

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মজুদদারদের কারসাজিই মূলত আলুর দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তারা কৃষকের কাছ থেকে কম দামে আলু কিনে অতিরিক্ত মুনাফার জন্য বাজারে সংকট তৈরি করছেন।

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী জানান, দেশের স্টোরেজে জায়গা খালি থাকলেও ব্যবসায়ীরা আলু মজুদ করে দাম বাড়াচ্ছেন।

উৎপাদন বনাম চাহিদা

সরকারি তথ্য বলছে, দেশে আলুর বাৎসরিক চাহিদা ৮০ লাখ টন হলেও উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ছয় লাখ টন। ফলে উদ্বৃত্ত থাকার কথা ২৬ লাখ টন। তা সত্ত্বেও দাম বৃদ্ধির কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পেঁয়াজ ও শীতকালীন সবজির বাজার

পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও এখনও কেজি ১১৫-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম তুলনামূলক বেশি। ঢাকায় শিম কেজিতে ১০০-১২০ টাকা, টমেটো ৮০-১০০ টাকা এবং বেগুন মানভেদে ৬০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আশার আলো

বাজারের বিক্রেতারা আশাবাদী, নতুন আলুর সরবরাহ পুরোদমে শুরু হলে দাম কমে আসবে। তবে বাজার পরিস্থিতি নির্ভর করছে মজুদদারদের নিয়ন্ত্রণে আনার ওপর।

বিশ্লেষণ
সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পরও বাজারে আলুর দাম বাড়ছে, যা অসাধু ব্যবসায়িক নীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার স্পষ্ট উদাহরণ। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া বাজারের এই অস্থিরতা কমবে না।