logo

আস্থার বাতিঘর: বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ নিরাপদ ব্যাংক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

Published:19 Jun 2025, 06:03 AM

আস্থার বাতিঘর: বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ নিরাপদ ব্যাংক


বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঋণ কেলেঙ্কারি, তারল্য সংকট, খেলাপি ঋণের উর্ধ্বগতি এবং আর্থিক অনিয়মের লাগাতার খবর ব্যাংক খাতের ওপর আস্থা হ্রাস করছে। অনেক গ্রাহক ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নিচ্ছেন এবং নিরাপদ বিকল্প খুঁজছেন।

এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—‘কোন ব্যাংকগুলো এখনো নিরাপদ?’

✅ নিরাপদ ব্যাংক চেনার মানদণ্ড কী?

বিশ্লেষকদের মতে, একটি ব্যাংককে নিরাপদ বিবেচনা করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হলো—

  • গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা

  • খেলাপি ঋণের নিম্নহার

  • স্থিতিশীল মুনাফা ও লভ্যাংশ প্রদান

  • প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও ডিজিটাল কার্যক্রম

  • প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও নিয়মিত অডিট

  • পর্যাপ্ত মূলধন ও তারল্য পরিস্থিতি

  • রেটিং এজেন্সিগুলোর ইতিবাচক মূল্যায়ন

এই মানদণ্ডের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের ১০টি শীর্ষ নিরাপদ ব্যাংকের তালিকা তুলে ধরা হলো—


🏦 বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ নিরাপদ ব্যাংক (২০২৪ ভিত্তিক পারফরম্যান্স)

১. স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক

বাংলাদেশে কার্যরত বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত ও লাভজনক।

  • মুনাফা: ৩,৩০০ কোটি টাকা (বৃদ্ধি: ৪১%)

  • বিশেষত্ব: ঝুঁকিমুক্ত লোন পোর্টফোলিও, শক্তিশালী মূলধন কাঠামো, শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট ক্লায়েন্ট সার্ভিস

  • প্রযুক্তি: উন্নত মোবাইল ও অনলাইন ব্যাংকিং

২. ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড

দেশের ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরের অগ্রদূত।

  • বৈশিষ্ট্য: সর্বাধিক এটিএম, ক্যাশলেস লেনদেন, নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা

  • মুনাফা: দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

  • আস্থা: গ্রাহকসেবায় উচ্চ স্কোর এবং নিরাপদ লেনদেন

৩. ব্র্যাক ব্যাংক

টেকনোলজি ও ইনোভেশন চালিত দেশের অন্যতম দ্রুততম উন্নয়নশীল ব্যাংক।

  • নিট মুনাফা বৃদ্ধি: ৭৩%

  • অঙ্গপ্রতিষ্ঠান: বিকাশ—মোবাইল ব্যাংকিং খাতে শীর্ষস্থানীয়

  • সেবা: এসএমই ব্যাংকিং, অ্যাপভিত্তিক লোন সুবিধা

৪. ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল)

নিয়মিত রেমিটেন্স আহরণ, বিদেশি অংশীদারিত্ব এবং উদ্ভাবনী প্রোডাক্টের কারণে টেকসই অবস্থান।

  • মুনাফা: ৬৬০ কোটি টাকা

  • লভ্যাংশ: ৩৫%

  • বৈশিষ্ট্য: করপোরেট গভর্ন্যান্সে স্বচ্ছতা, আন্তর্জাতিক কার্ড ও রেমিটেন্স সেবা

৫. উবা ব্যাংক (উত্তরার পুবালি ব্যাংক)

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক হয়েও ধারাবাহিক সংস্কারে খেলাপি ঋণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

  • খেলাপি ঋণ হার: ২.৬৭%

  • আর্থিক স্বচ্ছতা: সরকারি বন্ড, প্রকল্প ঋণে ভালো অবস্থান

  • বিশ্বাসযোগ্যতা: চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে জনপ্রিয়

৬. ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল)

বিতর্কিত সময় পার করেও এখনও রেমিটেন্স আহরণে শীর্ষে।

  • বৈশিষ্ট্য: আন্তর্জাতিক লেনদেনে শক্তিশালী, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আমানত

  • সুবিধা: ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের পূর্ণাঙ্গ সেবা, অবকাঠামো শক্তিশালী

৭. সোনালী ব্যাংক লিমিটেড

সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক; আমানত ও সরকারের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে শীর্ষস্থানীয়।

  • বৈশিষ্ট্য: সরকারি বেতন, বিদেশি লেনদেন, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বিতরণ

  • ভূমিকা: তারল্য সহায়তা দিয়ে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে বাঁচিয়ে রাখছে

৮. সিটি ব্যাংক পিএলসি

ডিজিটাল ইনোভেশনে অগ্রণী ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত।

  • বৈশিষ্ট্য: এমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড একমাত্র প্রদানকারী, উদ্ভাবনী প্রোডাক্ট

  • রেটিং: আন্তর্জাতিক মানের আর্থিক রেটিং

৯. প্রাইম ব্যাংক পিএলসি

মূলধন পর্যাপ্ততা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির মাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছে।

  • মুনাফা: ৭০০ কোটি টাকা

  • CAR: ১৮.২৬% (খাতের অন্যতম সর্বোচ্চ)

  • লভ্যাংশ: ২০%

১০. উত্তরা ব্যাংক পিএলসি

প্রতিষ্ঠাকালীন ১৯৬৫ সাল থেকে স্থিতিশীলতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে চলছে।

  • মুনাফা: ৪৭৮ কোটি টাকা

  • আয় বৃদ্ধি: ৩০.৭৫%

  • বিশ্বস্ততা: দীর্ঘমেয়াদী আমানতের জন্য পরিচিত


🔍 উপসংহার:

দেশের ব্যাংকিং খাত নানা চ্যালেঞ্জে থাকলেও এসব ১০টি ব্যাংক তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা, প্রযুক্তিনির্ভরতা ও গ্রাহকসেবার মান দিয়ে আলাদা নজর কাড়ছে।

সচেতন গ্রাহকদের জন্য উপদেশ হলো:
ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকের প্রলোভন এড়িয়ে এই তালিকাভুক্ত নিরাপদ ব্যাংকগুলোতে সঞ্চয় ও লেনদেন করলে আমানতের নিরাপত্তা অনেকাংশে নিশ্চিত করা সম্ভব।