
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
Published:30 Sep 2025, 05:41 AM
ইসলামী ব্যাংকে নজিরবিহীন শুদ্ধি অভিযান: ২০০ চাকরিচ্যুত, প্রায় ৫ হাজার ওএসডি
ওএসডি হওয়া কর্মকর্তারা বেতন-ভাতা পেলেও কোনো দায়িত্বে থাকবেন না। এতে ব্যাংকের অভ্যন্তরে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের প্রভাবশালী এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও যোগ্যতা উপেক্ষার অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে পটিয়া উপজেলার বিপুলসংখ্যক বাসিন্দাকে পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
স্বচ্ছতা আনতে বর্তমান কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংক ও আদালতের নির্দেশে গত ২৭ সেপ্টেম্বর একটি বিশেষ যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষা নেয়। ৫,৩৮৫ কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র ৪১৪ জন অংশ নেন; বাকি ৪,৯৭১ জনকে ওএসডি করা হয় এবং পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ২০০ জনকে সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়।
ওএসডি হওয়া কর্মকর্তাদের দাবি, হাইকোর্ট আগেই নিয়মিত প্রমোশনাল পরীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু ব্যাংক সেটি মানেনি। তারা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “ছাঁটাইয়ের উদ্দেশ্যে এই ধরনের পরীক্ষা দেশের ইতিহাসে এই প্রথম।” তিনি জানান, বেসরকারি ব্যাংক হওয়ায় নিয়োগ ও যাচাই ব্যাংকের এখতিয়ারভুক্ত হলেও তা অবশ্যই আইন ও নীতিমালার আওতায় হতে হবে।
উল্লেখ্য, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা অপসারণ হয়েছিল। গত বছর সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরই শুরু হয় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার এই বিশেষ অভিযান।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, হাজার হাজার কর্মীর ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে আদালত, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।