logo

কুমিল্লার বাঁশ ও বেত শিল্পের কারিগরদের জীবনে দুর্দিন

আপন ঘর ডেস্ক

Published:23 Mar 2024, 07:47 AM

কুমিল্লার বাঁশ ও বেত শিল্পের কারিগরদের জীবনে দুর্দিন


দেশের গ্রামীণ জনপদে একসময় তৈরি হতো বাঁশ -বেতের হাজারো পণ্যসামগ্রী।অনেকে এ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দরিদ্র পরিবারের অনেকের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছিল এগুলো। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে বাঁশ-বেতের এই হস্তশিল্পটি টিকে আছি কোনরকম। এ শিল্পে জড়িত অনেকেই বাপ-দাদার আমলের পেশা ত্যাগ করে অন্য পেশায় নিয়োজিত হচ্ছেন। আবার অভাব অনটনের মাঝেও বংশপরম্পরায় কেউ কেউ জড়িয়ে আছেন বাঁশ-বেতের তৈরি পণ্যের মায়ায়। তেমনি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কিছু পরিবার বাঁশ-বেতের এই হস্তশিল্পকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন।


বেশ কয়েক বছর আগেও বাঁশ ও বেতের তৈরি জিনিসের কদর ছিল। চেয়ার, টেবিল, বইয়ের সেলফ, মোড়া, কুলা, ঝুড়ি, ডোল, চাটাই থেকে শুরু করে এমনকি ড্রইংরুমের আসবাবপত্র তৈরিতেও বাঁশ ও বেত প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা হতো। এ ছাড়া মাছ ধরার পলো, হাঁস, মুরগির খাঁচা, শিশুদের ঘুম পাড়ানোর দোলনা এসবের চাহিদার কমতি ছিল না। কিন্তু আগের মতো এখন আর হাটবাজারে বাঁশ-বেতের কদর নেই। এখন এসব জিনিসপত্র প্লাস্টিকের মাধ্যমে মেশিনে তৈরী হচ্ছে।বাঁশ-বেতের স্থান অনেকটাই প্লাস্টিক সামগ্রী দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে বাঁশ ও বেতের সামগ্রীর চেয়ে প্লাস্টিক সামগ্রী কেনার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।


কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দীর্ঘভূমি, মাধবপুর, রামনগর চণ্ডীপুর, ধান্যদৌল নন্দীপাড়া ও সাহেবাবাদ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কিছু পরিবার বাঁশ আর বেত দিয়ে তৈরি শিল্পের মাধ্যমেই তাদের জীবিকানির্বাহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।


তবে আধুনিক যুগে তৈরীকৃত বিভিন্ন ধরনের ধাতব ও প্লাস্টিক শিল্পের আগ্রাসনের কবলে পড়ে বাঁশ ও বেত শিল্প ক্রমে মুখ থুবড়ে পড়ছে। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সহ আশপাশে কর্মরত শত শত বাঁশ ও বেত শিল্পের কারিগরদের জীবনে চলছে দুর্দিন।


দিন দিন বাঁশ আর বেতের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ভালো নেই এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগররা। জীবন জীবিকার তাগিদে তবুও বংশপরম্পরায় পাওয়া এই পেশাকেই আঁকড়ে ধরে আছেন তারা। এই শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন উপজেলার সাহেবাবাদ গ্রামের ৫ পরিবার, রাগনগর গ্রামের ১শ পরিবার, ধান্যদৌল গ্রামের ১৮ পরিবার, দীর্ঘভূমি গ্রামের ৪ পরিবার ও মাধবপুর গ্রামে রয়েছে ৪০টি পরিবার।


বেত শিল্পের কারিগর রাধা চন্দ্র নম বলেন, বাঁশ ও বেত শিল্পের মাধ্যমে এখন আর আমাদের সংসার চলে না। ক্রেতা সংকটসহ নানান সমস্যায় আমরা জর্জরিত। তাছাড়া দিন দিন দুষ্প্রাপ্যও হয়ে পড়ছে এ শিল্প সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল বাঁশ ও বেত। এখন আর আগের মতো বাড়ির আশেপাশে বাঁশ ও বেত গাছ রাখছে না কেউ। সেগুলো কেটে চাষাবাদসহ ঘরবাড়ি তৈরি করছে মানুষ। বাঁশ বেত আর আগের মতো সহজেই পাওয়া যায় না। কিনতে হয় চড়া দামে। তাই জিনিসপত্র তৈরী করে বিক্রিও করতে হয় চড়া দামে। অথচ স্বল্পমূল্যে এখন মানুষ প্লাস্টিক সামগ্রী পাচ্ছে। যে কারণে বংশপরম্পরায় পাওয়া এ কাজ থেকে অনেকেই সরে পড়ছে।


জানা যায়, এক সময় ব্রাহ্মণপাড়ার এ জনপদে বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি হতো গৃহস্থলী ও সৌখিন পণ্যসামগ্রী। বাড়ির পাশের বাঁশঝাড় থেকে তরতাজা বাঁশ থেকে বেত সংগ্রহ করে তৈরি করতেন হরেক রকমের ব্যবহারিক পণ্য। এসব নিজেদের ব্যবহারের পাশাপাশি, বাজারে বিক্রি করেও চলতো অনেক পরিবার। তবে এখনও গ্রামীণ উৎসব ও মেলাগুলোতে বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্য সামগ্রী


কদাচিৎ চোখে পড়ে। তবে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার আহ্বান জানান বাঁশ-বেত শিল্পের কারিগররা।


উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি ) মোহাম্মদ কাউছার হামিদ গণমাধ্যমকে বাঁশ-বেত শিল্প বাঙালির ঐতিহ্য। বাঁশ-বেত শিল্পের সাথে জড়িত ভূমিহীনরা আমার দপ্তরে যোগাযোগ করলে তাদের ভূমি পাওয়ার বিষয়ে আমি সুপারিশ করতে পারব, অথবা এ শিল্পের সাথে জড়িতদের বাঁশ চাষের জায়গা না থাকলে একই উপায়ে জায়গা পাওয়ার বিষয়ে আমি সুপারিশ করতে পারব।