logo

ঘুমের ওষুধ খেয়ে স্ত্রীর বুকে ছুরিকাঘাত, হত্যার পর বিছানায় শুয়ে ছিলেন স্বামী

আপন ঘর ডেস্ক

Published:17 Dec 2024, 06:04 AM

ঘুমের ওষুধ খেয়ে স্ত্রীর বুকে ছুরিকাঘাত, হত্যার পর বিছানায় শুয়ে ছিলেন স্বামী


নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়া স্বামী ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন স্ত্রীকে। এরপর নির্বিকার স্বামী পাশের ঘরের বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়েন। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম মাইজচরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ রিনা আক্তার (২২) সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম মাইজচরা গ্রামের নাদু মিয়ার মেয়ে। আর অভিযুক্ত স্বামী মো. নাহিদ হোসেন খুলনার রূপসা উপজেলার খলিল মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন ফার্নিচার মিস্ত্রি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে রিনা ও নাহিদের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে নাহিদ প্রায়ই শ্বশুরবাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। গত ১০ থেকে ১৫ দিন আগে স্ত্রী-সন্তানসহ তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন।

গতকাল সন্ধ্যায় নাহিদ স্থানীয় চরচেঙ্গা বাজারের একটি ফার্মেসি থেকে বেশ কয়েকটি ঘুমের ওষুধ কিনে সেবন করেন। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রাত ৯টার দিকে বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে স্ত্রীর বুকে ছুরিকাঘাত করেন নাহিদ। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই রিনার মৃত্যু হয়। হত্যার পর পাশের ঘরের বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়েন নাহিদ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খবর পেয়ে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে নাহিদকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ এসে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তুচ্ছ ঘটনার জেরে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন নাহিদ। নিহতের স্বজনেরা অভিযুক্ত স্বামীকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।