
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
Published:03 Jan 2023, 05:30 PM
ডাক্তারের অবহেলায় আবারো রোগী মৃত্যুর অভিযোগ
রোগি ভর্তি হয়েছিল মেরুদণ্ডে হাড়ের ব্যথা নিয়ে। ডাক্তারের পরামর্শে অপারেশন করানোর কথা ছিল। এ সময় আগের হিস্ট্রি না জেনে অপারেশন থিয়েটারে নিতে নির্দেশ দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার মো. মাহ্ফুজুর রহমান। এতে হাড়ের অপারেশনের জন্য ইনেস্থেশিয়া কাল হলো রোগীর জন্য। ডাক্তারের এই ভুলে রোগী মৃত্যর অভিযোগ ওঠেছে।
বরিশালের রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে গত ৩০ ডিসেম্বর মোসাঃ রেহানা(৫৮) নামে এক নারী ওই মর্মান্তি মৃত্যুর শিকার হন।
এদিকে, নিহতের ভাই, বাবুগঞ্জ যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাসুদ করিম লাবু অভিযোগ করে বলেন, হাতুড়ে ওই ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় আজ মরতে হলো আমার মেঝ বোনকে ।
মাসুদ করিম আরো বলেন, আমার মেঝো বোন সামান্য মেরুদণ্ডের ব্যথা নিযে ৩০ ডিসেম্বর রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন।এর পর কোন রকম হিস্ট্রি যাচাই না করে রাতে অপারেশনের জন্য ইনিস্থেশিয়া দেওয়া হয়।এরপর আর তার জ্ঞান ফেরেনি। সকালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।তাদের ভুল চিকিৎসার জন্য আমার বোন মারা গেছেন। এসময় কতর্পক্ষের কাছে প্রশ্ন রাখেন, এই হাসপাতালে ICU সুবিধা না থাকা সত্বেও তারা রোগিকে আইসিওতে নিয়ে গেলো কেন?
এই মৃত্যুর পর নিহতের ছোটভাই ঢাকা কলেজের পদার্থ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওবায়দুর করিম রিয়াজ অভিযোগ করে বলেন,
মেঝো ভগ্নি ইন্তেকাল করেন তাদের ভুল চিকিৎসার জন্য। এই হাসপাতালে ICU সুবিধা না থাকা সত্বেও রোগীদেরকে ভুলভাল বুঝিয়ে নিউরোসহ অনেক ধরনের সার্জারি করে থাকে।
তিনি আরো বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রায়শই ঘটে। এই হাসপাতালের মালিক মরহুম আনোয়ার সাহেব তিনি নিজেই করোনাকালীন সময় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি নিজেই অদক্ষ ডাক্তার বিধায় নিজে করোনা আক্রান্ত হয়েও মৃত্যুর আগের দিন রাত পর্যন্ত অপারেশন করেন।
ওই মালিক দালাল নির্ভর প্র্যাকটিস করতেন। সব ধরনের রোগীর চিকিৎসা অপারেশন করতেন। এভাবে তিনি অনেক রোগী কে মেরে ফেলেছেন। তিনি মারা যাওয়ার পর সেই অবস্থা এখনও বিদ্যমান বলে জানান রিয়াজ।
তার বোনের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে এই ভুক্তভোগি বলেন, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের রোগীকে কোন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আইসিইউ সুবিধা ছাড়াই সংজ্ঞাহীন করা হয়। অপারেশনের টেবিলেই তার মৃত্যু হয়।
এসসয় তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এবং এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানান।