logo

ডেনমার্কে মুসলিম ধর্ম ও কিছু অজানা তথ্য

আপন ঘর ডেস্ক

Published:20 Jan 2023, 12:29 AM

ডেনমার্কে মুসলিম ধর্ম ও কিছু অজানা তথ্য


ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমের দেশ ডেনমার্ক। সরকারিভাবে এটি ‘কিংডম অফ ডেনমার্ক‘ নামে পরিচিত। ডেনমার্ক স্ক্যান্ডিনেভীয় অঞ্চলের অংশ। ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগলিকভাবে দেশটি উত্তরের স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইউরোপের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। দেশটির রাজধানী ও বৃহত্তম শহর কোপেনহেগেন। এ ছাড়া আরহাস ও আলব্রোগা দেশটির প্রধান দুই শহর।

ডেনমার্কের আয়তন ৪২ হাজার ৯২৪ বর্গকিলোমিটার। ওয়ার্ল্ডওমিটার-এর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে দেশটির জনসংখ্যা ৫৮ লাখ ৪৪ হাজার। ডেনমার্কের রাষ্ট্রভাষা ডেনিশ। প্রায় ৫০ লাখ মানুষ এই ভাষায় কথা বলে। ডেনমার্কের বর্তমান জাতীয় পতাকা ১২১৯ সাল থেকে প্রচলিত। দেশটির জাতীয় পতাকার নাম ডান্নেব্রগ যা পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন এবং একাধারে ব্যবহার করা পতাকা গুলোর মধ্যে থাকায় বিশ্বরেকর্ড গড়েছে।

বিশ্বের অন্যতম ধনী ও আধুনিক রাষ্ট্র ডেনমার্ক। সবুজ ভূমি, পাহাড়, নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ দেশটিতে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র থাকলেও সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতেই দেশ পরিচালিত হয়।

ডেনমার্কের ধর্ম

ডেনমার্কের রাষ্ট্রধর্ম ইভাঞ্জেলিক্যাল লুথারান তথা লুথারীয় খ্রিস্ট ধর্ম যা দেশটির সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে। জনসংখ্যার প্রায় ৮৫ শতাংশই ইভাঞ্জেলিক্যাল লুথারান ধর্মের। ৩ শতাংশ রোমান ক্যাথলিক। দেশটিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম হলো ইসলাম। মুসলিমদের সংখ্যা ৩ লাখের মতো। যা মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশ।

ইসলাম ও মুসলিমদের আগমনের ইতিহাস

ঐতিহাসিকদের মতে, কয়েক শতক ধরেই ডেনমার্কে বসবাস করছে মুসলিমরা। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে দেশটির প্রথম সংযোগ তৈরি হয় মধ্যযুগে। ডেনিশ ইতিহাসবেত্তা জরগেন সিমনসেনের মতে, জেরুজালেমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুসলিম ও সম্মিলিত খ্রিস্টান বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত ক্রুসেড যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল ডেনমার্কের সামরিক বাহিনী।

তখন থেকেই ডেনমার্ক ইসলামের সঙ্গে পরিচিতি ঘটে। ১৮৮০ সালে পরিচালিত আদমশুমারিতে ডেনমার্কে ৮ জন মুসলিমের নাম নথিভুক্ত করা হয়। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত প্রতিটি আদমশুমারিতে মুসলিমদের সংখ্যা গণনা করা হয়েছে এবং প্রতিবারই আগের চেয়ে সংখ্যা বেড়েছে। ১৯৫০-এর দশকে মুসলিম দেশগুলো থেকে ব্যাপক অভিবাসন শুরু হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নের কারণে যুগোস্লাভিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান ও উত্তর আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক মুসলিম ডেনমার্কে আসে। এটাকে মুসলিম অভিবাসনের প্রথম ঢেউ বলা হয়। এ সময় দেশটিতে ইসলামের প্রসার ঘটে এবং ১৯৬৭ সালে এখানে প্রথমবারের মতো মসজিদ নির্মাণ মুসলিমরা।

কিন্তু ১৯৭৩ সালে অভিবাসী আইনে পরিবর্তন এনে মুসলিম অভিবাসন একেবারে বন্ধ করে দেয় ডেনিশ সরকার। এরপর ১৯৮০-এর দশকে আবারও মুসলিম অভিবাসন শুরু হয়। যাকে দ্বিতীয় ঢেউ বলে উল্লেখ করা হয়। মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলো থেকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে ডেনমার্কে আসে বহু মুসলিম।

ডেনিশ সরকার এখন নাগরিকদের ধর্মের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে না। ফলে মুসলিমদের সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব নয়। তবে বেসরকারিভাবে একটা হিসাব রাখা হয়। ইউনিভার্সিটি অব কোপেনহেগের গবেষক ব্রায়ান জ্যাকবসেন অভিবাসীদের দেশ ও জাতির ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত একটা হিসাব রাখেন। তার হিসাব মতে, ২০২০ সালে মুসলিমদের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫৬ হাজার।

তবে এর এক বছর আগে তথা ২০১৯ সালে প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ’-এর প্রতিবেদন মতে, ডেনমার্কে বসবাসরত মুসলিমদের সংখ্যা তিন লাখ ১৩ হাজার ৭১৩ জন, যা ডেনিশ জনগণের ৫.৪০ শতাংশ। ডেনিশ মুসলিমদের প্রায় ৪০ শতাংশই রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী। মুসলিমদের ৭০ ভাগই বর্তমানে ডেনিশ নাগরিক। যার বেশিরভাগই আবার প্রথম প্রজন্ম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের।

দেশ ও জাতির বিচারে ডেনিশ মুসলিমদের ২২.২ শতাংশ তুর্কি, ১০.২ শতাংশ ইরাকি, ৯.৫ শতাংশ লেবানিজ, ৮.৭ শতাংশ পাকিস্তানি, ৭.৩ শতাংশ সোমালিজ ও ৬.৩ শতাংশ আফগান। অন্যরা বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্র থেকে আগত।

বেশিরভাগ অভিবাসী হলেও ধর্মান্তরিত স্থানীয় ডেনিশ মুসলিমদের সংখ্যাও কম নয়। ২০১৭ সালে প্রায় ৩ হাজার আটশ’ ডেনিশ নাগরিক মুসলিম হন। খ্যাতিমান ডেনিশ নাগরিকদের মধ্যে ১৯২৯ সালে লেখক ও সাংবাদিক নুড হলম্বো প্রথম ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন।


শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ

মুসলিমদের সঙ্গে সঙ্গে ডেনমার্কে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদের সংখ্যাও বাড়ছে। ২০০৬ সালে ডেনমার্কে মসজিদের সংখ্যা ছিল ১১৫টি। ২০১৭ সালে যা বেড়ে ১৭০টি হয়। সরকার স্বীকৃত এসব মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন। ডেনিশ মুসলিমদের ২০ থেকে ২৫ শতাংশই এসব সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

মসজিদ ছাড়াও দেশটিতে আরও অসংখ্য নামাজের ঘর রয়েছে। মুসলিমদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশটিতে সরকার অনুমোদিত ২২টি কমিউনিটি রয়েছে। মুসলিম শিশুদের শিক্ষার জন্য রয়েছে একাধিক ইসলামিক স্কুল। এসব স্কুল সাধারণ বিভিন্ন দেশের কমিউনিটিভিত্তিক। ডেনমার্কের প্রথম ইসলামিক স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালে। বর্তমানে ২২টি স্বাধীন মুসলিম প্রাইমারি স্কুল রয়েছে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা

ডেনমার্কে সংবিধানের মাধ্যমে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রধর্ম খ্রিস্টান হওয়ার সুবাদে চার্চ অব ডেনমার্ক নির্দিষ্ট কিছু সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। যা অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলো পায় না। তবে দেশটিতে অন্যান্য ধর্মপালনের স্বাধীনতা রয়েছে। প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী ধর্মাচার করতে পারে।

ধর্মীয় প্রতীক ও পোশাক পরার ব্যাপারে ডেনিশদের স্বাধীনতা রয়েছে। পার্লামেন্ট, সরকারি স্কুল ও কর্মক্ষেত্রে যে যার খুশি মতো পোশাক পরতে পারে। তবে সম্প্রতি দেশটির রাজনীতিতে উগ্র জাতীয়তাবাদ, শরণার্থীবিরোধী মনোভাব ও ইসলামবিদ্বেষ বাড়ছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক মানবাধিকার সংগঠনের সমালোচনা উপেক্ষা করে ২০১৮ সালে দেশটিতে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করা হয়। যাতে আইন অমান্য করলে এক হাজার ডেনিশ ক্রোন জরিমানা করার বিধান রাখা হয়।

নাগরিকদের খাবারের স্বাধীনতা রয়েছে ডেনমার্কে। মুসলিমদের জন্য তাদের পছন্দ অনুযায়ী হালাল খাবার বেশ সহজলভ্য। তবে প্রাণী অধিকারকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে ২০১৪ সালে আইন করে পশু জবেহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সংস্কৃতি ও আন্তধর্মীয় সম্পর্ক

ডেনিশ মুসলিমদের বেশিরভাগই সুন্নি। তবে উল্লেখযোগ্য অংশ শিয়া। এ ছাড়া আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিমও রয়েছে। তবে সবার মধ্যেই একটা সম্প্রীতি রয়েছে। এ মুসলিমদের বেশিরভাগই আবার বড় শহরগুলোতে বাস করে।

রাজধানী কোপেনহেগেনে ৪৭.৪ শতাংশ, ৯.৪ শতাংশ আরহাস ও ৫.৫ ভাগ ওডেন্সে শহরে বাস করে। প্রত্যেক সম্প্রদায় তাদের নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্ম ও সাংস্কিৃতিক কর্মকাণ্ড করে থাকে। এর মধ্যে সুন্নিদের ঈদ উৎসেবর পাশাপাশি প্রতিবছর আশুরা উপলক্ষে প্রায় ৩ হাজার শিয়া মুসলিমের মিছিল উল্লেখযোগ্য।

ডেনমার্কে আন্তধর্মীয় সম্পর্ক বেশ জোরাল। মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশাপাশি পুরো ডেনিশ সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টিতে কাজ করছে বেশ কয়েক মুসলিম যুব সংগঠন।

এ ছাড়া ১৯৯৬ সালে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের সমন্বয়ে এমন একটি সংগঠন গড়ে ওঠে যা আন্তধর্মীয় সম্পর্কের অনন্য দৃষ্টান্ত। দ্য ইসলামিক-ক্রিশ্চিয়ান স্টাডি সেন্টার নামের ওই সংগঠনে মুসলিম ও খ্রিস্টান সদস্যের সংখ্যা সমান সমান। উভয় ধর্মের মধ্যে একটা ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে কাজ করছে সংগঠনটি।

ডেনমার্কের অজানা তথ্য

ডেনমার্কে ডিভোর্সের পরিমাণটা অনেক বেশি এবং বহু নারী ও পুরুষ বিয়ে না করেই একসাথে থাকে। আর এই ধরনের ব্যবস্থা কে “Peparless Marriage” বলে। ডেনমার্কের জাতীয় মুদ্রার নাম ডেনিস ক্রোন। আর ১ ডেনিস ক্রোন বাংলাদেশের ১৫ টাকা ১২ পয়সার সমান। সামাজিক মেলামেশা অন্য দেশগুলোর তুলনায় বেশি এবং আয়ের দিক দিয়ে একে অপরের মধ্যে পারস্পরিক ব্যবধান কম থাকায় ডেনমার্কের করাপশনের মাত্রা খুবই কম।

মানব উন্নয়ন সূচক হিসেবে পঞ্চম স্থানে থাকা ডেনমার্ক এখন একটি সর্বোচ্চ মানের জীবনধারণের জন্য পরিচিত দেশগুলোর মধ্যে একটি এবং সর্বোচ্চ প্রতি ব্যক্তি আয় অনুযায়ী যেসব দেশ গুলোর তালিকা তৈরি হয় তাদের মধ্যে প্রথম দিকে ডেনমার্কের নামটা থাকে। তাই ডেনমার্ক একটি উন্নত দেশ। যারা আয়ের মূল উৎস আয়রন, স্টিল, ফুড প্রসেসিং জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং কনস্ট্রাকশন। তবে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাতে একটা অত্যাধুনিক দেশ হওয়ায় ডেনমার্কের শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বায়ুকে কাজে লাগানো হয়। তাই পৃথিবীর সবথেকে বড় উইন্ড টারবাইন গুলো এই ডেনমার্কে আছে।

এই উইন্ড টারবাইন গুলোর ঘোরানোর ফলে উৎপন্ন শক্তি বর্তমানে অন্য দেশেও রপ্তানি করা হয়। ডেনমার্কে হাওয়ার গতিবেগ বেশি থাকায় এই বায়ু শক্তি উৎপাদন বেশি হয়। ইউরোপীয় দেশ গুলোর মধ্যে ডেনমার্কে বিপুল পরিমাণে প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার পাওয়া গেছে। বিশেষত দক্ষিণ সাগরের যে অঞ্চল টি ডেনমার্কের অংশ সেখানেই গ্যাস এবং তেলের পরিমাণ টা বেশি।

এই বিপুল খনিজ ভান্ডার থাকায় ডেনমার্ক ক্রুড ওয়েল অর্থাৎ অপরিসিত তেল রপ্তানিতে ৩২তম স্থান অধিকার করে। ডেনমার্ক একটি ইউনিটারি স্টেট যা গঠিত হয়েছে ডেনমার্ক এবং তার সাথে দুটি স্ব-শাসিত জায়গা গ্রীনল্যান্ড এবং ফেরো আইল্যান্ড নিয়ে। এই গ্রিন ল্যান্ড ফেরো আইল্যান্ড ডেনমার্কের অন্তর্ভুক্ত হলো এই দুই জায়গায় তাদের নিজস্ব সরকার এবং পার্লামেন্ট রয়েছে। এই দুই দ্বীপ গুলোর মধ্যে গ্রীনল্যান্ড কে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ হিসেবে মনে করা হয়। তবে অনেকের মতে অস্ট্রেলিয়া এবং আন্টার্টিকার কথাটা মনে আসতে পারে। কিন্তু এটুকু জেনে রাখা দরকার এই অস্ট্রেলিয়া এবং আন্টার্টিকার দুটি আলাদা মহাদেশ।

ডেনমার্কে শিক্ষিতের হার ৯৯ শতাংশ এবং বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় এবং মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গেলে কোনোরকম টিউশন ফি দিতে হয় না। এমনকি শিক্ষাক্ষেত্রে অনুদান পাওয়ার জন্য জমা দেওয়ার আবেদনপত্র গৃহীত হলে ১৮ বছর বা তার উপরে ছাত্রছাত্রীরা আর্থিক সাহায্য পর্যন্ত পেয়ে থাকে। এই ইউনিভার্সিটি গুলোতে বিদেশি ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনার ব্যবস্থা আছে।

আধুনিক যুগের একটা যুগান্তকারী আবিষ্কার ব্লুটুথ-এর নামকরণ করা হয় ডেনমার্কেরই এক রাজা হ্যারাল্ড ব্লুটুথ-এর নাম অনুসারে।

এই দেশে কফির চাহিদা বেশি হওয়ায় ডেনমার্ক কফি পান করায় বিশ্ব বিখ্যাত। যেখানে দেশের এক বিরাট অংশের মানুষ কফি পান করতে পছন্দ করে।

ডেনমার্কের সাধারণ মানুষদের সম্ভাব্য আয়ুকাল ৮০ বছরের মতো এবং দেশে প্রায় অধিকাংশ চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিনামূল্যে পাওয়া যায়। ডেনমার্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় উৎসব জুল যা আবার ডেনিস ক্রিসমাস নামেও পরিচিত। আর এই জুল সারা ডিসেম্বর মাস ধরেই পালন করা হয়।

এই সহজলভ্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার ঘটায় ডেনমার্কের বেশ কিছুসংখ্যক সাহিত্যিক ও চিকিৎসক নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তাই জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতি ব্যক্তির মাথাপিছু অনুযায়ী যদি তুলনা করি তাহলে ডেনমার্কের বিশিষ্টজনেরা বিশ্বের সবথেকে বেশি সংখ্যক নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন। বিশ্বে একটি সুখী দেশ হিসেবে পরিচিত ডেনমার্কে কিন্তু ব্যক্তিগত ইনকাম ট্যাক্স অর্থাৎ পার্সোনাল ইনকাম ট্যাক্স সবচেয়ে বেশি থাকা দেশ গুলোর মধ্যে আছে। যেখানে ৬০ শতাংশেরও বেশি ইনকাম ট্যাক্স দিতে হয়। 

ডেনমার্কে প্রতি দুই-তিন দিন অন্তর অন্তর বৃষ্টি হয় কারণ এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি। ফলে বছরে প্রায় ১৭৯ দিন দেশে বৃষ্টি হয়।

অবাকভাবে ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ডের যেকোনো স্থান থেকে সমুদ্রের উপকূল কাছাকাছি। মানে দেশে কোন একটা স্থান থেকে যাত্রা শুরু করে ৫২ কিলোমিটারের মতো গেলেই জল দেখা যাবে। তাই জলের ভাগ কাছাকাছি থাকায় ডেনমার্কের সাধারণ মানুষ ভালো সাঁতার কাটতে পারে।

তবে ডেনমার্কে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে সাইকেলের ব্যবহার বেশি হয়। বিশেষ করে দেশের রাজধানী কোপেনহেগেনের সাইকেলের ব্যবহার বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু জানেন কী প্রাইভেটকার কেনাটা ডেনমার্কে ব্যয় সাপেক্ষ। কারণ নতুন ব্যক্তিগত গাড়ি কিনলে তার জন্য ১৫০ শতাংশ রেজিস্ট্রেশন ট্যাক্স দিতে হয়। তাই সাধারণ মানুষ পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বেশি ব্যবহার করে এবং এর পেছনে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকানা কমানো। ইউরোপের পুরনো এয়ারপোর্ট গুলোর মধ্যে থাকা কোপেনহেগেন এয়ারপোর্ট ডেনমার্কের সবচেয়ে বড় এবং ব্যস্ততম বিমানবন্দর। এই কোপেনহেগেন এয়ারপোর্ট ডেনমার্কের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ডেনমার্কের রাজবংশ বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো রাজবংশের মধ্যে পড়ে। যারা প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো এবং এই রাজবংশ একসময় দেশের পূর্ণ শাসনের অধিকার থাকলেও বর্তমানে তাদের ক্ষমতা যথেষ্ট কমে গেছে। ডেনমার্কের জাতীয় খেলা ফুটবল।যা ডেনমার্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ডেনমার্কে প্রায় ১৬০০টি ফুটবল ক্লাবে ৩ লাখেরও বেশি ফুটবল খেলোয়ার রয়েছে।