logo

তরুণ উপদেষ্টার পদত্যাগে নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশের দ্বারপ্রান্তে

আপন ঘর ডেস্ক

Published:03 Feb 2025, 04:54 AM

তরুণ উপদেষ্টার পদত্যাগে নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশের দ্বারপ্রান্তে


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের একজন তরুণ উপদেষ্টা পদত্যাগ করে নতুন এই দলের নেতৃত্বে আসতে পারেন।

সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, নতুন দলটি আদর্শগতভাবে মধ্যপন্থী হবে এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। দলটির নাম ও প্রতীক নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জাতীয় নাগরিক কমিটির একাধিক সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে থাকা তিন উপদেষ্টা—মাহফুজ আলম, নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ—এর মধ্যে একজন পদত্যাগ করে দলের নেতৃত্ব নেবেন। বাকি দুজন পরে সুবিধাজনক সময়ে পদত্যাগ করে দলে যোগ দিতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, এদের একজন আগামী জুন মাসে পদত্যাগ করবেন।

জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শেষদিকে নতুন রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি দল গঠন করতে চাই, যা ডান বা বাম কোনো চরমপন্থার দিকে না গিয়ে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে। গণ–অভ্যুত্থানের পক্ষে ছিলেন কিন্তু কোনো দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের আমরা নতুন দলে অন্তর্ভুক্ত করতে চাই।’

তিনি আরও জানান, দলের নাম, নেতৃত্ব এবং আত্মপ্রকাশের নির্দিষ্ট স্থান ও তারিখ নিয়ে আলোচনা চলছে। শীর্ষ নেতৃত্ব নির্ধারণের জন্য জনমত যাচাই করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা ছাত্র উপদেষ্টাদের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে তাঁদের পদত্যাগের পর শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব কীভাবে থাকবে, সেটি নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন দলের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে আসতে পারেন একজন উপদেষ্টার ভাই, যিনি বর্তমানে নাগরিক কমিটির সদস্য।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। পরে গত সেপ্টেম্বরে জাতীয় নাগরিক কমিটি আত্মপ্রকাশ করে এবং দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করে। বর্তমানে সারা দেশে তাদের প্রতিনিধির সংখ্যা ৩৪ হাজার ছাড়িয়েছে।

অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় সাড়ে আট হাজার সদস্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তারা ৩০টি জেলা, ৫টি মহানগর, ৮টি থানা, ২টি বিশ্ববিদ্যালয়, ৩টি কলেজ ও একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কমিটি গঠন করেছে।

তবে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পরও জাতীয় নাগরিক কমিটি ‘সিভিল পলিটিক্যাল প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে বহাল থাকবে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কার্যক্রমও চলমান থাকবে।