logo

দুই দিনেই সূচক নেই ১৫৪ পয়েন্ট: বৈঠক থেকে আশার বার্তা!

আপন ঘর ডেস্ক

Published:20 Mar 2024, 05:14 AM

দুই দিনেই সূচক নেই ১৫৪ পয়েন্ট: বৈঠক থেকে আশার বার্তা!


দেশের পুঁজিবাজারে আটদিন ধরে টানা দরপতন হচ্ছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স এ সময়ে ৩১৭ পয়েন্ট হারিয়েছে। এর মধ্যে গত দুদিনে প্রায় ১৫৪ পয়েন্ট হারিয়েছে সূচকটি। সূচকের পাশাপাশি এ সময়ে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণও প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার-পরবর্তী দর সমন্বয়ের কারণেই পুঁজিবাজারে দরপতন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।


বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৬ মার্চ ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৬ হাজার ১৬৬ দশমিক ১৪ পয়েন্ট। এদিন পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছিল ৭৩০ কোটি টাকা। এর পর থেকে টানা কমতে থাকে সূচকটি। সর্বশেষ গতকাল ৫ হাজার ৮১৪ দশমিক ১০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে ডিএসইএক্স। এদিন লেনদেন হয়েছে ৪৬৫ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ। গতকাল একদিনে পুঁজিবাজারে সূচক কমেছে ৮৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এদিন ৪১টি সিকিউরিটিজের দর বাড়ার বিপরীতে কমেছে ৩১৯টি আর অপরিবর্তিত ছিল ৩৬টির বাজারদর। গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস, রবি আজিয়াটা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), প্রাইম ব্যাংক, রেনাটা, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্র্যাক ব্যাংক, ওরিয়ন ইনফিউশন ও উত্তরা ব্যাংকের শেয়ারের।


এদিকে পুঁজিবাজারের দরপতনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল লেনদেন চলাকালীন সকাল সাড়ে ১০টায় সাম্প্রতিক পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে শীর্ষ ৩০ ব্রোকারেজ হাউজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক দরপতন ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার-পরবর্তী দর সমন্বয়। দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো, যার প্রতিফলন দ্রুত পুঁজিবাজারে পড়বে।’ 


আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্রোকারেজ হাউজের প্রতিনিধিরা সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। তারা মনে করেন, বাজার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার মতো উল্লেখযোগ্য কোনো কারণ নেই। তবে কারো কারো মতে, শেয়ারদরের ওপর থেকে ফ্লোর তুলে নিলে এমনিতেই কিছুটা দর সমন্বয় হয়। এটি স্বাভাবিক। শিগগিরই বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে বলে ইঙ্গিত করেছেন শীর্ষ এ ব্রোকার প্রতিনিধিরা। তবে আগামী দিনে বাজারের সার্বিক স্বার্থে তারা বেশকিছু দাবি তুলেছেন, যা বাস্তবায়নের ফলে বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং বাজার দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও টেকসই হবে। পুনরায় ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হতে পারে বলে বাজারে যে গুজবটি রয়েছে, সেটি যে মিথ্যা তা স্পষ্ট করা, বর্তমান মার্জিন বিধিমালা-১৯৯৯-এর যুগোপযোগী সংস্কার, ভালো কোম্পানির আইপিও বাজারে তালিকাভুক্ত করা, কোম্পানি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সঠিক পরিপালন নিশ্চিত করা, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে মিউচুয়াল ফান্ডের ওপর জোর দেয়া, মিউচুয়াল ফান্ডের সংখ্যা বাড়ানো, কোম্পানির ক্যাটাগরি ডিভিডেন্ডের ওপর না করে এর মূলধনের আকারের ওপর করা, সাধারণ শেয়ারহোল্ডার, স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার কিংবা অন্য কোনো শেয়ারহোল্ডারকে না জানিয়ে ভিন্ন কোনো উপায়ে কোনো কোম্পানির শেয়ার না বাড়ানো ও দ্বৈত করের বিষয়টি সমাধান করতে হবে।