logo

দুদিনে বিএবিটিসির শেয়ারদর কমেছে ১৫ শতাংশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

Published:06 Mar 2024, 03:39 AM

দুদিনে বিএবিটিসির শেয়ারদর কমেছে ১৫ শতাংশ


ফ্লোর প্রাইসের কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে পুঁজিবাজারে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের (বিএটিবিসি) শেয়ারদর স্থবির হয়ে ছিল। তবে গত সোমবার ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর থেকে দুদিনে কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ১৫ শতাংশ। এতে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ধসে কমেছে ৪ হাজার ২০৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বিএটিবিসির শেয়ারদর কমার প্রভাবে দুদিন ধরে পুঁজিবাজারেও সূচকের দরপতন হয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের আগে গত রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিএটিবিসির শেয়ারদর ছিল ৫১৮ টাকা ৭০ পয়সা। এদিন কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ২৮ হাজার ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। পরদিন ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর কোম্পানিটির শেয়ারদর কমে ৪৭৯ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়ায়। সর্বশেষ গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার আরো কমে ৪৪০ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এদিন কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ২৩ হাজার ৮০৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। 

পুঁজিবাজারে ফ্রি ফ্লোট বাজার মূলধনের দিক দিয়ে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের পরেই বিএটিবিসির অবস্থান। ফলে পুঁজিবাজারে সূচক ওঠানামার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী কোম্পানির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কোম্পানিটি। বিএটিবিসির দর কমার প্রভাবে গত দুদিনে পুঁজিবাজারে সূচক কমেছে ৫২ পয়েন্ট।

গতকাল দিন শেষে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪৪ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ১৩১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৬ হাজার ১৭৫ পয়েন্ট। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইর নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ গতকাল ১০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১০৮ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৪০ পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৩৪৪ পয়েন্ট। 

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে বিএটিবিসি পরিচালনা পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩৩ টাকা ১১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৩ টাকা ১০ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯৯ টাকা ৩৩ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৭৬ টাকা ২৭ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে ২৮ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। 

বিএটিবিসি ১৯৭৭ সালে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৫৪০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধনও একই। রির্জাভে রয়েছে ৩ হাজার ৫৭৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ৫৪ কোটি। এর মধ্যে ৭২ দশমিক ৯১ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, দশমিক ৬৪ শতাংশ বাংলাদেশ সরকার, ১৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ৬ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাকি ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।