নবম-দশম শ্রেণির পাশাপাশি আগামী শিক্ষাবর্ষে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি পাঠ্যবইয়েও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পাঠ্যবইগুলোতে সংযোজন করা হচ্ছে নতুন গল্প-কবিতা ও গদ্য। বিশেষভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মতো ঐতিহাসিক বিষয়বস্তু এবার পাঠ্যসূচিতে জায়গা পাচ্ছে।
নতুন সংযোজন ও বাদ পড়া বিষয়বস্তু
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, নতুন শিক্ষাবর্ষে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রায় ৪০ কোটি ৩৯ লাখ বই ছাপানো হচ্ছে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান এ কে এম রিয়াজুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পঞ্চম শ্রেণি:
- সংযোজন: "আমরা তোমাদের ভুলব না" (জুলাই বিপ্লব), "সবার আমি ছাত্র", "জলপরী ও কাঠুরের গল্প", "নোলক", "কুমড়ো ও পাখির কথা" ও "দৈত্য ও জেলে"।
- বাদ: "ফেব্রুয়ারির গান", "মাটির নিচে যে শহর", "দেখে এলাম নায়াগ্রা", "রৌদ্র রেখে জয়", "মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী", "শহিদ তিতুমীর" ও "অপেক্ষা"।
- পরিবর্তন: "স্মরণীয় যাঁরা চিরদিন" গল্পের শিরোনাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে "স্মরণীয় যাঁরা বরণীয় যাঁরা"।
ষষ্ঠ শ্রেণি:
- সংযোজন: "কার্টুন ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা" (জুলাই বিপ্লব), "আমাদের লোকশিল্প"।
- বাদ: সৈয়দ শামসুল হকের "কত দিকে কত কারিগর"।
- কবিতা: রোকনুজ্জামান খানের "মুজিব" বাদ দিয়ে তাঁরই "চিঠি বিলি" কবিতা যুক্ত হচ্ছে।
- ইংরেজি বই: "সন অব দ্য সয়েল" ও "মুজিব ইন স্কুল ডেজ" বাদ। যুক্ত হচ্ছে "আওয়ার প্রাইড"।
সপ্তম শ্রেণি:
- সংযোজন: হাসান রোবায়েতের "সিঁথি" (জুলাই বিপ্লব) কবিতা। ইংরেজি বইয়ে যুক্ত হচ্ছে "আ নিউ জেনারেশন" ও "আওয়ার উইনার ইন দ্য গ্লোবাল এরেনা"।
- বাদ: সেলিনা হোসেনের "রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন" গদ্য। গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের "শোনো একটি মুজিবরের থেকে" ও সুনির্মল বসুর "সবার আমি ছাত্র" কবিতা। আনন্দ পাঠ বইয়ে "সুইজারল্যান্ডের দিনগুলি"।
- ইংরেজি বই: "বঙ্গমাতা: আওয়ার সোর্স অব ইন্সপিরেশন", "বঙ্গবন্ধু'স লাভ ফর স্পোর্টস" এবং "বঙ্গবন্ধু'স রেসপন্স টু ন্যাচারাল ক্যালামিটিস" বাদ।
অষ্টম শ্রেণি:
- সংযোজন: মোতাহের হোসেন চৌধুরীর "লাইব্রেরি" ও "গণ অভ্যুত্থানের কথা"।
- বাদ: কামরুল হাসানের "আমাদের লোকশিল্প" গদ্য। আনন্দ পাঠ থেকে মুহম্মদ জাফর ইকবালের "আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা"।
- ইংরেজি বই: "বঙ্গবন্ধু অ্যান্ড বাংলাদেশ" বাদ। যুক্ত হচ্ছে "উইমেন’স রোলস ইন আপরাইজিং" ও "হিউম্যানস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট"।
পরিবর্তনের কারণ
পাঠ্যবই পরিমার্জনের সঙ্গে যুক্ত লেখক রাখাল রাহা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর সঠিক প্রতিফলন ও বিষয়বস্তুর যথাযথ গুরুত্ব নিশ্চিত করতে এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিষয়ের পরিবর্তে ঐতিহাসিক ও বিষয়কেন্দ্রিক লেখাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করায় তা পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা হয়েছে।
এই পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ের মানও উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।