logo

পাঁচ দুর্বল ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণে অর্থায়ন অনিশ্চয়তা, প্রয়োজন ৬০ হাজার কোটি টাকা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

Published:22 Aug 2025, 05:45 AM

পাঁচ দুর্বল ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণে অর্থায়ন অনিশ্চয়তা, প্রয়োজন ৬০ হাজার কোটি টাকা


শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করে নতুন ব্রিজ ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফরেনসিক অডিট সম্পন্ন হওয়ার পর ইতোমধ্যে এসব ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও শেষ হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে আগামী অক্টোবরেই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করবে নতুন ব্যাংক। তবে এ উদ্যোগ সফল করতে যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, সেটি জোগাড় নিয়েই তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।


একীভূতকরণের তালিকায় রয়েছে— ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এই পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করতে ব্যয় হবে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে সরকারের কাছ থেকে ২০ হাজার কোটি, আমানত বিমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে ১০ হাজার কোটি এবং বিশ্বব্যাংক ও এডিবিসহ আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে ৩৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েই কার্যক্রম শুরু করার কথা ভাবছে বাংলাদেশ ব্যাংক।


তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অর্থ জোগাড় করা মোটেও সহজ হবে না। কারণ—


আইনি জটিলতা: আমানত বিমা ট্রাস্ট ফান্ড থেকে টাকা নিতে হলে ‘ব্যাংক আমানত বিমা আইন’ সংশোধন করতে হবে। বর্তমানে এ তহবিল ব্যবহার করা যায় শুধু অবসায়িত ব্যাংকের আমানত ফেরত বা রক্ষণাবেক্ষণে।


তহবিল ঘাটতি: বর্তমানে ট্রাস্ট ফান্ডে ১৬ হাজার কোটি টাকা মজুদ রয়েছে, যা পুরো ব্যাংক খাতের জন্য বরাদ্দ। এখান থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা একীভূতকরণে ব্যয় করলে অন্য সংকটে পড়া ব্যাংকের আমানত ফেরত দেওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দেবে।


সরকারি বাজেট ঘাটতি: চলতি অর্থবছরে ব্যাংক পুনর্গঠনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার কোটি টাকা, অথচ প্রয়োজন ২০ হাজার কোটি। অর্থাৎ কমপক্ষে ৭ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থেকে যাবে।


বিদেশি অর্থায়নের শর্ত: বিশ্বব্যাংক, এডিবি বা আইএমএফ অর্থ দিলেও কঠোর শর্ত চাপাতে পারে। নতুন ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও গ্রাহক আস্থা নিশ্চিত না হলে অর্থায়নও ঝুঁকিতে পড়বে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একীভূত ব্যাংকগুলোর ভিত্তিতে একটি নতুন ব্রিজ ব্যাংক গঠন করা হবে। এর অস্থায়ী কার্যালয় থাকবে মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে। প্রথমে এটি সরকারি মালিকানায় পরিচালিত হলেও তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হবে। বিদেশি সংস্থাগুলোর জন্য শেয়ার মালিকানাও উন্মুক্ত রাখার চিন্তাভাবনা চলছে।


এ ছাড়া নতুন ব্যাংকের জন্য বিশেষ নীতিগত সুবিধা দেওয়া হবে। যেমন— শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৪% নগদ সংরক্ষণ (সিআরআর) ও ৫.৫% তারল্য সংরক্ষণ (এসএলআর) বাধ্যতামূলক হলেও নতুন ব্রিজ ব্যাংক এ নিয়ম থেকে ছাড় পাবে।


সব মিলিয়ে পাঁচ দুর্বল ব্যাংকের একীভূতকরণ পরিকল্পনা এগোলেও অর্থায়নের অনিশ্চয়তা ও আইনি জটিলতা এ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।