logo

পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নে নতুন কমিটি: আস্থার সংকট কাটাতে সংস্কার

আপন ঘর ডেস্ক

Published:06 Feb 2025, 04:32 AM

পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নে নতুন কমিটি: আস্থার সংকট কাটাতে সংস্কার


দেশের পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেককে। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিভাগটির পুঁজিবাজার শাখার যুগ্ম সচিব।


কমিটির দায়িত্ব ও কাঠামো এই কমিটি পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল ও আস্থাশীল করার জন্য বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুপারিশ করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন:

  • জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর একজন কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা।
  • বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) একজন করে নির্বাহী পরিচালক পর্যায়ের প্রতিনিধি।
  • ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান।


শেয়ারবাজারের সংকট ও প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্প্রতি প্রকাশিত শ্বেতপত্র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত ১৫ বছরে শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা জালিয়াতি, কারসাজি এবং ভুয়া কোম্পানি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ ও ২০১১ সালের শেয়ারবাজার ধসের পেছনে শক্তিশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ভূমিকা ছিল, তবে এখনও পর্যন্ত কারসাজির নায়কদের বিচার হয়নি। এছাড়া বিএসইসি-র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ তারা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।


সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এর আগে গত ৭ অক্টোবর শেয়ারবাজার সংস্কার ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পাঁচ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। নতুন গঠিত কমিটি এবং টাস্কফোর্সের সুপারিশ বাস্তবায়ন করে সরকার পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চায়।


বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কমিটির কার্যক্রম সফল হলে বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে সহায়ক হবে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কতটা কার্যকরভাবে এই সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়।