
আপন ঘর ডেস্ক
Published:18 Aug 2024, 06:49 AM
পুঁজিবাজারে নতুন করে সাবধানতা অবলম্বন করছেন বিনিয়োগকারীরা
শেয়ারবাজারে সপ্তাহের শুরু হয়েছে দরপতন দিয়ে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ রোববার লেনদেনের প্রথম ঘণ্টাতেই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮৮ পয়েন্ট বা প্রায় দেড় শতাংশ কমে গেছে। ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারের দরপতনের কারণে এদিন সূচকটিরও বড় পতন দিয়ে বাজারে লেনদেন শুরু হয়েছে।
বাজার–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্বশূন্যতার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা ভর করেছে। যার কারণে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করছেন। ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যেসব বিনিয়োগকারী বাজারে সক্রিয় হয়েছিলেন, তাঁদের অনেকে মুনাফা তুলে নিয়ে আবারও সাইডলাইনে চলে গেছেন। এ কারণে বাজারে বিক্রির চাপ বাড়লেও সেই তুলনায় ক্রেতা কম।
নতুন অন্তর্বর্তী সরকার ১৩ আগস্ট বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজকে নিয়োগ দেয়। কিন্তু এই নিয়োগের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে একটি পক্ষ কিছু অভিযোগ তোলে। তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে মাসরুর রিয়াজের সখ্য। সালমান এফ রহমানের সঙ্গে একটি ছবিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ অভিযোগ তোলা হয়। পাশাপাশি বিএসইসির কর্মকর্তাদের একটি অংশ মাসরুর রিয়াজের নিয়োগের বিরোধিতা করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেয়। যদিও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। এমন এক পরিস্থিতিতে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের বিষয়ে অপরাগতা প্রকাশ করেন মাসরুর রিয়াজ। গতকাল শনিবার তিনি তাঁর এই অপারগতার কথা অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানান। এ কারণে বিএসইসিতে নেতৃত্বশূন্যতা দেখা দেয়।
বিএসইসি পুনর্গঠন পিছিয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আস্থার ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন বাজার–সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেয়ারবাজারের শীর্ষস্থানীয় একটি ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘বাজারে নতুন বিনিয়োগে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও ব্যক্তি শ্রেণির উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীরা কিছুটা দোটানায় পড়েছেন। বিএসইসি পুনর্গঠন ছাড়া এ পরিস্থিতির অবসান হবে বলে মনে হচ্ছে না। এ কারণে বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।’
ঢাকার বাজারে আজ বেলা পৌনে ১টা পর্যন্ত লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩৬৩টিরই দরপতন হয়েছে। দাম বেড়েছে ১৮টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৩টি প্রতিষ্ঠানের দাম। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের কারণে লেনদেনেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ডিএসইতে ওই সময়ে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৬২ কোটি টাকা।
ব্রোকারেজ হাউস লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের তথ্য অনুযায়ী, আজ ঢাকার বাজারে সূচকের পতনে যেসব কোম্পানির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি ছিল, তার মধ্যে প্রথম পাঁচটি হলো স্কয়ার ফার্মা, গ্রামীণফোন, ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও বেক্সিমকো ফার্মা।