logo

পুঁজিবাজারে মুনাফার ধস: উচ্চ সুদহার ও মূল্যস্ফীতির চাপে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো

আপন ঘর ডেস্ক

Published:25 Feb 2025, 04:00 AM

পুঁজিবাজারে মুনাফার ধস: উচ্চ সুদহার ও মূল্যস্ফীতির চাপে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো


দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের মুনাফা কমেছে। উচ্চ সুদহার, মূল্যস্ফীতি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ২০২৩ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে অধিকাংশ কোম্পানি আর্থিক চাপে পড়েছে।

মুনাফার পরিসংখ্যান: এখন পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ২১৩টি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকের আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করেছে।

  • ৯৭টি প্রতিষ্ঠান আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি মুনাফা করেছে।
  • ১১৬টি প্রতিষ্ঠানের বা মোট ৫৪ শতাংশ কোম্পানির মুনাফা কমেছে।
  • ১৮টি প্রতিষ্ঠান লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফিরেছে।
  • ৩২টি প্রতিষ্ঠান মুনাফা থেকে লোকসানে চলে গেছে।

অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ: সন্ধানী অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, যদিও অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে মুনাফা গড়ে ১৬ শতাংশ বেড়েছে, তবে এটি ২০২৩ সালের জানুয়ারি-মার্চের তুলনায় এখনও ৭ শতাংশ কম।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী জানান, জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং মানুষের কেনাকাটার পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় কোম্পানিগুলো মুনাফা ধরে রাখতে পারেনি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ১.৮১ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বড় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ছোট কোম্পানিগুলোর দুর্দশা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো কঠিন সময় পার করছে। ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাড়ার পাশাপাশি উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে কোম্পানিগুলো পণ্যের দাম সমন্বয় করতে পারেনি।

কিছু প্রতিষ্ঠান ঘুরে দাঁড়িয়েছে:

  • পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ ২০২৩ সালের অক্টোবরে ১১৪ কোটি টাকা লোকসান করলেও ২০২৪ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বরে ৩৯৮ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।
  • স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের মুনাফা ৪২৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬৬০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
  • ডেসকো ১৪৫ কোটি টাকা লোকসান থেকে ফিরে এসে ২৬ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।
  • বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মুনাফা ৯৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৮২ কোটি টাকা হয়েছে।

তবে কিছু প্রতিষ্ঠান চরম ক্ষতির সম্মুখীন:

  • তিতাস গ্যাস ৩৯ কোটি টাকা মুনাফা থেকে ৫২২ কোটি টাকা লোকসানে নেমে এসেছে।
  • বেক্সিমকো লিমিটেড ৭৩ কোটি টাকা মুনাফা থেকে ২৪৩ কোটি টাকা লোকসানে গেছে।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি: অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, ব্যাংক ঋণের সুদহার বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে ব্যবসার অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। বাজার স্থিতিশীল করতে সরকার ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।