
বিজনেস ডেস্ক
Published:01 Dec 2022, 06:54 PM
পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ফিরল দেশ
বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় অবস্থানে নেমে এসেছিল। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ওয়ার্ল্ড স্ট্যাটিসটিকাল রিভিউ ২০২২ অনুযায়ী দ্বিতীয় অবস্থানটি পুনরুদ্ধার করেছে বাংলাদেশ। গত বছর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভিয়েতনাম ফিরে গিয়েছে তৃতীয় অবস্থানে।
বুধবার (৩০ নভেম্বর) ডব্লিউটিও’র ওয়ার্ল্ড স্ট্যাটিসটিকাল রিভিউ ২০২২ প্রকাশ হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাদে একক দেশ হিসেবে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বাংলাদেশের উপরে এক নম্বর অবস্থানে যথারীতি চীন। তবে এখাতে বাংলাদেশকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ করছে এশিয়ার আরেক দেশ ভিয়েতনাম। গত বছর বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ভিয়েতনামের অবস্থান তৃতীয়তে ফিরে এসেছে।
প্রতিবেদনের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশের বাজার অংশিদারত্ব (মার্কেট শেয়ার) ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে ভিয়েতনাম রপ্তানি করেছে ৩১ বিলিয়ন ডলারের পোশাক, তাদের মার্কেট শেয়ার ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিসটিকাল রিভিউ ২০২২ প্রতিবেদনে শীর্ষ ১০ পোশাকের রপ্তানিকারক দেশের রপ্তানি, বাজার অংশিদারিত্ব ও প্রবৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, বরাবরের মতো ২০২১ সালেও বৈশ্বিক বাজারে পোশাকের প্রধান রপ্তানিকারক ছিল চীন। গত বছর দেশটি পোশাক রপ্তানি করে ১৭৬ বিলিয়ন ডলারের। একই খাতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর রপ্তানি ছিল ১৫১ বিলিয়ন ডলারের।
রপ্তানি, বাজার অংশিদারিত্ব ও প্রবৃদ্ধির বিবেচনায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দেশ দুটি। ৩৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে একক দেশ হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ৩১ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে ভিয়েতনামও আছে দ্বিতীয় অবস্থানে। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে তুরষ্ক।
পোশাক রপ্তানির বৈশ্বিক বাজারে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর অংশ বা হিস্যার হ্রাসবৃদ্ধিও উঠে এসেছে ডব্লিউটিওর প্রতিবেদনে। এক্ষেত্রে ২০০০, ২০০৫, ২০১০ ও ২০২১ সালের পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে। দেখা গেছে, চীনের বাজার-অংশ সম্প্রতি সংকোচনের ধারায় চলে গেছে। ২০০০ সালে বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে দেশটির হিস্যা ছিল ১৮ দশমিক ২ শতাংশ। ২০০৫ সালে তা বেড়ে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ ও ২০১০ সালে ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়। তবে ২০২১ সালে বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে দেশটির অংশগ্রহণ কমে হয়েছে ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ।
বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ চলতি শতকের সূচনাকালে সামান্য কমলেও বর্তমানে তা প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে। ২০০০ সালে বৈশ্বিক রপ্তানির ২ দশমিক ৬ শতাংশ করেছিল বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে তা কমে হয় ২ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে ২০১০ সালে বাংলাদেশের অংশিদারিত্ব ৪ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়। সর্বশেষ ২০২১ সালে বৈশ্বিক রপ্তানির ৬ দশমিক ৪ শতাংশ করেছে বাংলাদেশ।