
আপন ঘর ডেস্ক
Published:13 Dec 2024, 06:46 AM
বাজার স্থিতিশীল রাখতে কুড়ার তেল রপ্তানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের সুপারিশ
দেশের ভোজ্যতেল বাজারে সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ধানের কুড়ার তেল রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। সংস্থাটি পরিশোধিত ও অপরিশোধিত—উভয় ধরনের কুড়ার তেলের ক্ষেত্রে শুল্ক আরোপের পাশাপাশি রপ্তানির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদনের শর্ত আরোপের সুপারিশ করেছে।
বিটিটিসির সুপারিশের পেছনের কারণ:
দেশের বার্ষিক ভোজ্যতেলের চাহিদা ২২–২৩ লাখ টন। এর প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ পূরণ সম্ভব কুড়ার তেল দিয়ে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় এবং আসন্ন রমজানের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কুড়ার তেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
টিসিবির ভূমিকা ও সমস্যার উৎস:
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে তেল সরবরাহ করে। কিন্তু কুড়ার তেল রপ্তানিতে বেশি লাভের কারণে মিলগুলো টিসিবির চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দিতে অনাগ্রহী।
সংকটের অন্য দিক:
বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, কুড়ার তেল রপ্তানির কারণে পোল্ট্রি ও মাছের ফিডের কাঁচামাল সংকট দেখা দিচ্ছে। তাই রপ্তানি বন্ধ করলে ফিড শিল্প উপকৃত হবে।
চলমান রপ্তানির চিত্র:
২০২২-২৩ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৭ হাজার ২৮৯ টন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভোমরা ও হিলি বন্দর দিয়ে ৬৪ হাজার ১৯ টন অপরিশোধিত কুড়ার তেল রপ্তানি হয়েছে।
উৎপাদন সক্ষমতা:
বাংলাদেশে ২০টি রাইস ব্র্যান অয়েল মিল রয়েছে, যাদের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৪ লাখ ৫৩ হাজার টন।
ট্যারিফ কমিশন মনে করছে, দ্রুত এই সুপারিশ কার্যকর করা হলে স্থানীয় ভোজ্যতেল বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে এবং দামও স্বাভাবিক থাকবে।