logo

রোলস রয়েসের রাজত্ব: ছয় মাসে দেশে এসেছে সবচেয়ে দামি ৮টি গাড়ি

আপন ঘর ডেস্ক

Published:07 Dec 2024, 04:57 AM

রোলস রয়েসের রাজত্ব: ছয় মাসে দেশে এসেছে সবচেয়ে দামি ৮টি গাড়ি


বাংলাদেশের অভিজাত এলাকায় এখন চোখে পড়ছে বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল ব্র্যান্ড রোলস রয়েস। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশে এসেছে আটটি রোলস রয়েসের বৈদ্যুতিক মডেল ‘স্পেক্টার’। যার প্রতিটির দাম পড়েছে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার কোটি টাকা।

এর আগে আমদানি হওয়া সবচেয়ে দামি গাড়ির তালিকায় শীর্ষে ছিল ‘ফেরারি’, তবে নতুন এই রোলস রয়েসগুলো সেটিকে ছাড়িয়ে গেছে।

রোলস রয়েসের আগমন

ব্রিটিশ বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোলস রয়েস গত বছর প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারজাত শুরু করে। বাংলাদেশ থেকে এর পরপরই বুকিং দেওয়া হয় আটটি গাড়ির জন্য। ২০২৪ সালে নির্মিত এই গাড়িগুলো গত এপ্রিল থেকে অক্টোবরের মধ্যে দেশে পৌঁছায়।

গাড়িগুলো আমদানি করেছে দেশের নামকরা শিল্প গ্রুপ ও গাড়ি ব্যবসায়ীরা। এনবিআরের হিসাব বলছে, তিনটি গাড়ি এনেছে বসুন্ধরা মাল্টি ট্রেডিং লিমিটেড, ফারইস্ট স্পিনিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং ইসলাম নিট ডিজাইনস লিমিটেড। বাকি পাঁচটি আমদানি করেছে ঢাকার প্রিয়াঙ্কা ট্রেডিং লিমিটেড, কন্টিনেন্টাল মোটরস, এশিয়ান ইমপোর্টস লিমিটেড, এ এম করপোরেশন ও ফোর হুইলস মোটরস।

শিল্প গ্রুপগুলো নিজেদের জন্যই গাড়ি এনেছে, তবে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রেতার অর্ডার অনুযায়ী আমদানি করেছে। জানা গেছে, দুই ক্রেতার মধ্যে একজন বেক্সিমকো পরিবার এবং অন্যজন শীর্ষস্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারক ডিবিএল গ্রুপ।

বৈদ্যুতিক গাড়ির শুল্ক সুবিধা

বৈদ্যুতিক গাড়িতে শুল্ক–কর অপেক্ষাকৃত কম। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সর্বশেষ আমদানিকৃত একটি রোলস রয়েস স্পেক্টার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করা হয় ২ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ডে। শুল্ক–করসহ মোট খরচ পড়েছে ৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। কিন্তু যদি এটি তেলচালিত (৪০০০ সিসির বেশি) হতো, তাহলে শুল্ক–কর হতো ৮২৬ দশমিক ৬০ শতাংশ বা প্রায় ৩৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারবিডা সভাপতি হাবিব উল্লাহ বলেন, ‘‘তেলচালিত রোলস রয়েসের শুল্ক এত বেশি যে বৈদ্যুতিক গাড়ির তুলনায় তা কিনতে অনেক বেশি কঠিন। শুল্ক–কর কম থাকায় এবার ক্রেতারা রোলস রয়েস কেনার সাহস দেখিয়েছেন।’’

রোলস রয়েস: অতীতের ইতিহাস

এটি প্রথম নয়; এর আগেও শুল্কমুক্ত সুবিধা বা বিশেষ ব্যবস্থায় দেশে দুটি রোলস রয়েস আনা হয়েছিল। এছাড়া কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হাতে জব্দ হয় আরও দুটি রোলস রয়েস। সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে রোলস রয়েসের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২টি।

রোলস রয়েস কেন এত অভিজাত?

রোলস রয়েসের নান্দনিক নকশা, অভ্যন্তরীণ বিলাসী ইন্টেরিয়র, এবং নিঃশব্দে চলার ক্ষমতা এই ব্র্যান্ডকে অনন্য করে তুলেছে। বৈদ্যুতিক মডেল ‘স্পেক্টার’ মাত্র ৪ দশমিক ৪ সেকেন্ডে ৬০ মাইল গতি তুলতে পারে এবং খুব কম জায়গাতেও সহজে চালানো যায়।

বিশ্বজুড়ে রোলস রয়েস আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশেও এই বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে।


সংক্ষেপে: বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দামি বৈদ্যুতিক গাড়ির তালিকায় রোলস রয়েস শীর্ষে। ছয় মাসে এসেছে আটটি স্পেক্টার মডেলের গাড়ি, যার প্রতিটির দাম ৪-৪.৫ কোটি টাকা। শুল্ক কম থাকায় এই বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির হার বাড়ছে।