logo

রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল বৃদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপন ঘর ডেস্ক

Published:20 Mar 2024, 05:16 AM

রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল বৃদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক তহবিল বৃদ্ধির জন্য জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ইউএনডিপির শুভেচ্ছাদূত ও সুইডেনের ক্রাউন প্রিন্সেস ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতকালে তিনি এ আহ্বান জানান।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং তাদের জন্য ভাসানচরে উন্নত আবাসনের ব্যবস্থা করেছে। বর্তমানে ভাসানচরে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করতে পারবে। তিনি আরও রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য ইউএনডিপির কাছে সহায়তা চান।


চারদিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন প্রিন্সেস ভিক্টোরিয়া। এ সফরে তিনি কক্সবাজার ও ভাসানচরের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনসহ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।


দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গভীর করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান প্রিন্সেস ভিক্টোরিয়া। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করার জন্য সুইডিশ ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।


জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ভুক্তভোগী দেশ বাংলাদেশ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কার্বন নির্গমনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবদান নগণ্য, অথচ দেশটি এই পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মারাত্মকভাবে অনুভব করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ।


স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া ও প্রভাব মোকাবেলার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তাদের জীবন-জীবিকা রক্ষার্থে বাংলাদেশ একটি জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে।


দারিদ্র্য বিমোচন সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে দারিদ্র্যের হার ইতোমধ্যে ৪১ শতাংশ থেকে ১৮.৭ শতাংশে এবং চরম দারিদ্র্যের হার ২৫.১ শতাংশ থেকে ৫.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।


সারাদেশে গৃহহীন মানুষদের ঘূর্ণিঝড়-প্রতিরোধী বিনামূল্যের বাড়ি প্রদান করে আসছে সরকার, ফলে বাংলাদেশে গৃহহীন মানুষ থাকবে না বলেও জানান তিনি।


তিনি উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কথাও উল্লেখ করেন।


শেখ হাসিনা ১৯৬৯ সালে স্বামীর পড়াশোনার জন্য সুইডেনে থাকাকালীন সময়ে দেশটিতে তার প্রথম সফরের স্মৃতিচারণ করেন।