
আপন ঘর ডেস্ক
Published:30 Mar 2025, 04:32 AM
শেয়ারবাজারে কারসাজির ফাঁদে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা!
চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়কালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পাঁচটি কোম্পানির শেয়ার মূল্যে ব্যাপক উত্থান-পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু শেয়ার লাভজনক হলেও, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি ছিল ক্ষতির কারণ। বড় বিনিয়োগকারীরা বা কারসাজিকারীরা শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি করে বিপুল মুনাফা করেছে, কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বেশিরভাগই লোকসানের মুখে পড়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি কোম্পানির শেয়ারের দাম ৭০% থেকে ২০৭% পর্যন্ত বেড়েছে। এসব কোম্পানি হলো:
এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিল: ৯.৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৩১.৩৫ টাকা হয়েছে, বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ২৯.৫০ টাকায়।
খুলনা পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিং: মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ৭.২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৩.২০ টাকায় পৌঁছেছে, বর্তমানে ২৫.৯০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
শাইনপুকুর সিরামিকস: ১০.৩০ টাকা থেকে ২৭ টাকার ওপরে উঠে এখন ২৬.২০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স: ৩২.৩০ টাকা থেকে ৬৮.১০ টাকায় পৌঁছেছে।
এনার্জিপ্যাক পাওয়ার: ১২.২০ টাকা থেকে ২৪ টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে, বর্তমানে ২১.৩০ টাকায় লেনদেন চলছে।
এসব কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য নানা কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে যাওয়ার পর সাধারণ বিনিয়োগকারীরা উচ্চ মূল্যে শেয়ার কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় বিনিয়োগকারীরা শেয়ারের দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে পরে মূল্য হ্রাস ঘটিয়ে তাদের লোকসানের মুখে ফেলে।
এসব কোম্পানির মধ্যে কয়েকটি দীর্ঘদিন ধরে কোনো উল্লেখযোগ্য লভ্যাংশ দিচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ:
খুলনা পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিং ২০২০ সালের পর থেকে কোনো ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেয়নি।
প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৯ সালের পর থেকে কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।
এনার্জিপ্যাক পাওয়ার ২০২৪ সালে কোনো লভ্যাংশ দেয়নি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এই ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগ করার আগে কোম্পানির মৌলিক অবস্থা, লভ্যাংশ নীতি ও বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা উচিত। বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, অতি দ্রুত শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে কারসাজি থাকতে পারে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিনিয়োগকারীদের সচেতনভাবে এবং যথাযথ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা অপ্রত্যাশিত লোকসানের শিকার না হন।