logo

শেয়ারবাজারের টালমাটাল ২০২৪: অনাস্থা, জরিমানা ও টাস্কফোর্সের বছর

বিজনেস ডেস্ক

Published:29 Dec 2024, 08:52 AM

শেয়ারবাজারের টালমাটাল ২০২৪: অনাস্থা, জরিমানা ও টাস্কফোর্সের বছর


২০২৪ সালটি শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য ছিল এক দুঃসহ স্মৃতি। সূচকের ক্রমাগত পতন, শেয়ারের দামের অধোগতি, ও বাজার মূলধনের ধস বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে নামিয়ে দিয়েছে। বছরজুড়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। এমনকি তারা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কার্যালয় ঘেরাও এবং লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেন।

সূচক ও বাজার মূলধনের পতন
বছরের শুরুতে ৬,২৩৩ পয়েন্ট থেকে ২৬ ডিসেম্বর সূচক নেমে আসে ৫,১৮৪ পয়েন্টে। এক বছরে বাজার মূলধন হারিয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। বিনিয়োগকারীদের দাবি, নতুন কমিশন দায়িত্ব নিলেও বাজারে স্থায়ী পরিবর্তন আসেনি।

নতুন নেতৃত্ব ও টাস্কফোর্সের কার্যক্রম
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএসইসির নেতৃত্বে আসে পরিবর্তন। সাবেক ব্যাংকার খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বে নতুন কমিশন গঠন করা হয়। বাজার উন্নয়নে ৫ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠিত হয়, যারা বাজারের নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছে।

২০২৪ সালের আলোচিত ঘটনা ও জরিমানা
এ বছর ১২টি কোম্পানির শেয়ার কারসাজির অভিযোগে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ৭২২ কোটি টাকার জরিমানা করা হয়েছে। আলোচনায় উঠে আসে সাকিব আল হাসান ও সালমান এফ রহমানের নাম। সুকুক বন্ডের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের কারণে সালমান এফ রহমানের ভূমিকা ছিল নজরকাড়া।

বিনিয়োগকারীদের হতাশা ও ভবিষ্যৎ আশার আলো
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাজারে স্বল্পমেয়াদে কিছুটা চাঙাভাব দেখা গেলেও তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ডিএসইএক্স সূচক ৪,৮৯৮ পয়েন্টে নেমে আসে, যা ছিল চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে নতুন নেতৃত্ব ও টাস্কফোর্সের কার্যক্রম ২০২৫ সালে ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকীর মতে, সামষ্টিক অর্থনীতির পুনরুদ্ধার যদি দ্রুতগতিতে না হয়, তবে বাজারে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করা কঠিন। তবে ভালো কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের জন্য সামান্য আশার আলো হতে পারে।

২০২৫ সাল কি পুঁজিবাজারে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে, নাকি বিনিয়োগকারীদের হতাশা দীর্ঘায়িত করবে? সে উত্তর খুঁজতে তাকিয়ে থাকতে হবে আরও কিছুদিন।