
আপন ঘর ডেস্ক
Published:27 Feb 2025, 11:59 AM
শেয়ারবাজারে ভয়াবহ দুরবস্থা: ১৬ বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩৮% পুঁজি হ্রাস, নিয়ন্ত্রকদের ব্যর্থতা প্রশ্নবিদ্ধ
দেশের শেয়ারবাজার গত ১৬ বছরে প্রায় ৩৮% সংকুচিত হয়েছে, যেখানে মূল্যস্ফীতি হিসাব করলে বিনিয়োগকারীরা কোনো মুনাফা তো পাননি, উল্টো প্রতি বছর গড়ে ৩% হারে মূলধন হারিয়েছেন। অন্যদিকে, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী এই বাজারকে ব্যবহার করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকারেজ হাউস মালিকদের সংগঠন ডিবিএ আয়োজিত এক আলোচনায় উঠে এসেছে শেয়ারবাজারে দুর্নীতি, অনিয়ম, দুর্বল কোম্পানির আধিক্য, বিপুল অযোগ্য ঋণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতা।
গত ১৬ বছরে ১৩৪টি নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলেও, এর মধ্যে ৪২টি ইতোমধ্যে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে। বিনিয়োগকারীরা এসব কোম্পানিতে মুনাফা তো পাননি, উল্টো তাদের পুঁজি হারিয়েছেন। বর্তমানে শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৯,৭০০ কোটি টাকা এখন আদায়যোগ্য নয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার শেয়ারবাজারকে রাজনৈতিকভাবে শোষণ করেছে, অথচ কোনো সরকারই এটিকে অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। বিএনপি সরকার গঠন করলে শেয়ারবাজারকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে।”
বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, “নিয়ন্ত্রক সংস্থার গত দুই কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। তারা দুর্নীতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলোকে বাজারে এনে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক ব্যাংক সুপারভাইজার সাবিদ সিদ্দিকী বলেন, “বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হলে শেয়ারবাজারের তথ্য স্বচ্ছ করতে হবে এবং কোম্পানির নিরীক্ষকদের আরও কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে পরিকল্পিতভাবে একটি গোষ্ঠী শেয়ারের দাম বাড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। এটি বন্ধ করতে না পারলে বাজার আরও সংকটে পড়বে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শেয়ারবাজারে সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও কমবে, যা বাজারকে আরও গভীর সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে।