
আপন ঘর ডেস্ক
Published:28 Feb 2025, 06:30 AM
শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে বেক্সিমকোর জন্য ৫২৫ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে সরকার
বেক্সিমকো শিল্পপার্কের ১৪টি লে-অফ হওয়া প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধে সরকার ৫২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে। এই অর্থ ঋণ হিসেবে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে বেক্সিমকো গ্রুপকে তা পরিশোধ করতে হবে। এ ঋণের আওতায় পাওনা পরিশোধ পেতে যাচ্ছেন ৩১,৬৭৯ জন শ্রমিক এবং ১,৫৬৫ জন কর্মচারী। আগামী ৯ মার্চ থেকে ধাপে ধাপে এই পাওনা পরিশোধ শুরু হবে, যা চলবে রমজানের মাঝামাঝি পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বেক্সিমকো শিল্পপার্কের শ্রম ও ব্যবসায় পরিস্থিতি পর্যালোচনাসংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এসব তথ্য জানান।
আজ শুক্রবার থেকে বেক্সিমকো শিল্পপার্কের ১৪টি প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। বন্ধ কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ৩২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা দেবে, আর বাকি ২০০ কোটি টাকা আসবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে। আগামী ৯ মার্চ থেকে বেক্সিমকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
বেক্সিমকো শিল্পপার্কের ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক করতে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির নেতৃত্ব দেবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং বেক্সিমকো লিমিটেডে নিযুক্ত রিসিভারের প্রতিনিধি থাকবেন। এছাড়া, কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান।
২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বেক্সিমকো শিল্পপার্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জনতা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করেছে। এসব ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে। শ্রম উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানো হবে।
গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ১৩ আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। পরবর্তীতে ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাঁর, তাঁর ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও পুত্রবধূ শাজরেহ রহমানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে।
প্রথমে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করা হলেও জটিলতা দেখা দেওয়ায় সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয়।
গত বুধবার বেক্সিমকো গ্রুপের পক্ষ থেকে ১৪টি কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লে-অফ ঘোষণা করা হলেও কাজের সংস্থান না হওয়ায় ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে কারখানাগুলো পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, শ্রম আইন মেনে কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।