logo

সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে বাজারে আলোচনার ঝড়, কর যাচাইয়ের পরিকল্পনা আপাতত থেমে গেল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

Published:28 Sep 2025, 04:45 AM

সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে বাজারে আলোচনার ঝড়, কর যাচাইয়ের পরিকল্পনা আপাতত থেমে গেল


শেয়ারবাজারে বড় বিনিয়োগকারীদের মুনাফার তথ্য সংগ্রহের পদক্ষেপ নিয়ে হঠাৎই পিছু হটল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জগুলো। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫০ লাখ টাকা বা তার বেশি মূলধনি মুনাফা করেছেন— এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা চেয়ে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর কাছে পাঠানো চিঠি বৃহস্পতিবারই স্থগিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সকালে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠায়। তবে বিকেলেই নতুন বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়, আপাতত কোনো তথ্য পাঠাতে হবে না। বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

এর আগে, গত রোববার বিএসইসি দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে বড় বিনিয়োগকারীদের মুনাফার তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল। তবে ডিএসই বুধবারের বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত নেয়, বিএসইসির সঙ্গে আলোচনা না করে ব্রোকারদের কাছে এমন সংবেদনশীল তথ্য চাওয়া ঠিক হবে না।

বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, “এটা ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্যের মধ্যে পড়ে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা অনিয়ম ছাড়া কমিশন এমন তথ্য সংগ্রহ করবে কিনা, তা নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।”

উল্লেখ্য, জাতীয় বাজেট অনুযায়ী শেয়ারবাজার থেকে মূলধনি মুনাফা ৫০ লাখ টাকা ছাড়ালে কর দিতে হয়। কর যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে এনবিআর গত ২৫ আগস্ট বিএসইসিকে বড় মুনাফাকারীদের তালিকা চেয়ে চিঠি পাঠায়। তবে তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট সময়সীমা বা পদ্ধতি নির্ধারিত হয়নি।

বিশ্লেষণ:

এই পদক্ষেপ মূলত কর ফাঁকি রোধ ও বাজারে স্বচ্ছতা আনার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গোপনীয়তা ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে যথাযথ প্রস্তুতি না থাকায় দ্রুত এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, হঠাৎ করে বিনিয়োগকারীদের সংবেদনশীল তথ্য চাওয়ার পদক্ষেপ বাজারে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে, যা লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট নীতিমালা ছাড়া এমন তথ্য সংগ্রহে অগ্রসর হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা:

একই সময়ে, প্রস্পেক্টাস ও নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে অসংগতির প্রমাণ পাওয়ায় সাত নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিএসইসি। কেন তাদের পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে না, সে বিষয়ে শুনানিতে ডাকা হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

নোটিশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—

  • এ হক, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস

  • আহমেদ অ্যান্ড আক্তার

  • মাহফেল হক

  • আতা খান

  • সিরাজ খান বসাক

  • ইসলাম কাজী শফিক অ্যান্ড কোং

তারা ২০১৭–২০২০ সালে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, রিংসাইন টেক্সটাইল, আমান কটন ফাইব্রাস ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নিরীক্ষক হিসেবে কাজ করেছিল।


একদিকে বড় বিনিয়োগকারীদের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে নিয়ন্ত্রকের পিছু হটা, অন্যদিকে নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ—দুটোই বাজারে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, কর ফাঁকি ও অনিয়ম রোধে নীতিগত প্রস্তুতির ঘাটতি থাকলেও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা অব্যাহত রয়েছে।